logo

HOMOEOPATHY DOCTOR

📚 Home

অগ্রসর কর্মী মানয়োন্নয়ন গাইড

ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদের জন্য দরস, বই নোট, বিষয়ভিত্তিক আয়াত-হাদিস ও মাসয়ালা সংকলন

অনুশীলনী- ০৭ঃ এপ্রিল- ৪র্থ সপ্তাহঃ
# দারস তৈরী - সূরা ইখলাস # বই নোট: ইসলামী সংগঠন # আন্দোলন সংক্রান্ত আয়াত সূরা নিসা-৭৪ ও ৭৬, তওবা-২৪ ও ৩৮-৪১, আস-সাফ-৯,১০,১১,১২, আশ-শুরা-১৩, হজ্জ-৭৮ # আন্দোলন সংক্রান্ত হাদিস # সিয়াম সংক্রান্ত মাসয়ালা

দারস তৈরী -সূরা ইখলাস

নাম: (الإخلاص) আল ইখলাস (একনিষ্ঠতা, বিশুদ্ধতা) | আয়াত সংখ্যা: | অবতীর্ণ স্থান: মক্কা

সূরাটি তাওহীদ (আল্লাহর একত্ব) সারকথা।

মূল পাঠ ও অনুবাদ

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ
  1. قُلْ هُوَ ٱللَّهُ أَحَدٌ
    উচ্চারণ: কুল হুয়াল্লাহু আহাদ
    অনুবাদ: বলুন, তিনিই আল্লাহ, যিনি একক ও অদ্বিতীয়।
  2. ٱللَّهُ ٱلصَّمَدُ
    উচ্চারণ: আল্লাহুস সামাদ
    অনুবাদ: আল্লাহ অমুখাপেক্ষী (তিনি মুখাপেক্ষী নন, সবাই তাঁর মুখাপেক্ষী)।
  3. لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ
    উচ্চারণ: লম্ ইয়ালিদ ওয়ালাম্ উলাদ
    অনুবাদ: তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং কেউ তাঁকে জন্ম দেয়নি।
  4. وَلَمْ يَكُن لَّهُۥ كُفُوًا أَحَدٌ
    উচ্চারণ: ওয়ালাম ইয়া কুল্লাহু কুফুওয়ান আহাদ
    অনুবাদ: এবং তাঁর সমতুল্য কেউ নেই।

সূরার নামকরণ ও ফযীলত

সূরার নামকরণ
পবিত্র কুরআনুল কারীমের মাত্র দুটি সূরা যে সূরা দুটির নামকরণ সূরায় উল্লিখিত শব্দ বা সূরায় বর্ণিত ঘটনা থেকে করা হয়নি। বরং নামকরণ করা হয়েছে সূরার মুখ্য উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে। একটি হলো সূরা ফাতিহা আর দ্বিতীয়টি হলো সূরা ইখলাস। অত্র সূরায় একজন সত্যিকার মা‘বূদের পরিচয় তুলে ধরা হয়েছে। الإخلَاص শব্দের অর্থ : একনিষ্ঠভাবে কোন কিছু করা। যেমন বলা হয় : أخلص لله عمله (সে একনিষ্ঠ ভাবে আল্লাহ তা‘আলার জন্যই তার আমলকে সম্পাদন করেছে)। সূরাতে যেহেতু আল্লাহ তা‘আলার পরিচয় ও তাওহীদ সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে তাই إخلَاص নামে সূরার নামকরণ করা হয়েছে।

হাদীসের আলোকে ফযীলত

১. কুরআনের এক-তৃতীয়াংশের সমতুল্য (সহীহ বুখারী হা. ৫০১৫)

পরিচ্ছেদঃ ৬৬/১৩. কুলহু আল্লাহু আহাদ (সূরাহ ইখলাস)-এর ফযীলত।

عُمَرُ بْنُ حَفْصٍ حَدَّثَنَا أَبِيْ حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيْمُ وَالضَّحَّاكُ الْمَشْرِقِيُّ عَنْ أَبِيْ سَعِيْدٍ الْخُدْرِيِّ قَالَ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم لِأَصْحَابِهِ أَيَعْجِزُ أَحَدُكُمْ أَنْ يَقْرَأَ ثُلُثَ الْقُرْآنِ فِيْ لَيْلَةٍ فَشَقَّ ذَلِكَ عَلَيْهِمْ وَقَالُوْا أَيُّنَا يُطِيْقُ ذَلِكَ يَا رَسُوْلَ اللهِ فَقَالَ اللهُ الْوَاحِدُ الصَّمَدُ ثُلُثُ الْقُرْآنِ

আবূ সাঈদ আল খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত: তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর সাহাবীদের বললেন : "তোমাদের কেউ কি রাতে কুরআনের এক তৃতীয়াংশ পাঠ করতে অপারগ হবে?" এটা তাদের জন্য কষ্টকর হয়ে গেল। তারা বলল : "হে আল্লাহ তা‘আলার রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)! আমাদের কে এরূপ করতে সক্ষম হবে?" তখন রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন : (قُلْ هُوَ اللّٰهُ أَحَدٌ) সূরাটি কুরআনের এক তৃতীয়াংশের সমতুল্য।

ব্যাখ্যা: অর্থাৎ এক তৃতীয়াংশ কুরআন পড়লে যে নেকী হবে সেই নেকী এ সূরা পাঠ করলে পাওয়া যাবে। এভাবে এ সূরাটি তিনবার পড়লে সম্পূর্ণ কুরআন পড়ার নেকী পাওয়া যাবে ইনশা আল্লাহ। কারণ পবিত্র কুরআনে মূলত তিনটি বিষয় নিয়ে আলোকপাত করা হয়েছে—তাওহীদ, আহকাম ও নসীহত। সূরা ইখলাসে তাওহীদ পূর্ণভাবে থাকার কারণে তা কুরআনের এক-তৃতীয়াংশের মর্যাদা পেয়েছে।

২. আল্লাহর ভালোবাসা লাভের মাধ্যম (সহীহ বুখারী হা. ৭৩৭৫)

পরিচ্ছেদঃ ৯৭/১. আল্লাহর তাওহীদের দিকে উম্মাতের প্রতি নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর আহবান।

أَحْمَدُ بْنُ صَالِحٍ حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ حَدَّثَنَا عَمْرٌو عَنْ ابْنِ أَبِي هِلاَلٍ أَنَّ أَبَا الرِّجَالِ مُحَمَّدَ بْنَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ حَدَّثَهُ عَنْ أُمِّهِ عَمْرَةَ بِنْتِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ وَكَانَتْ فِي حَجْرِ عَائِشَةَ زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم عَنْ عَائِشَةَ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم بَعَثَ رَجُلاً عَلَى سَرِيَّةٍ وَكَانَ يَقْرَأُ لأَصْحَابِهِ فِي صَلاَتِهِمْ فَيَخْتِمُ بِ قُلْ هُوَ اللهُ أَحَدٌ فَلَمَّا رَجَعُوا ذَكَرُوا ذَلِكَ لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ سَلُوهُ لأيِّ شَيْءٍ يَصْنَعُ ذَلِكَ فَسَأَلُوهُ فَقَالَ لأَنَّهَا صِفَةُ الرَّحْمَنِ وَأَنَا أُحِبُّ أَنْ أَقْرَأَ بِهَا فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم أَخْبِرُوهُ أَنَّ اللهَ يُحِبُّهُ

’আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত: তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক সাহাবীকে একটি মুজাহিদ দলের প্রধান করে অভিযানে পাঠালেন। সালাতে তিনি যখন তাঁর সাথীদের নিয়ে ইমামত করতেন, তখন ইখ্লাস সূরাটি দিয়ে সালাত শেষ করতেন। তারা যখন অভিযান থেকে ফিরে আসল তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খেদমতে ব্যাপারটি আলোচনা করলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তাঁকেই জিজ্ঞেস করে কেন সে এ কাজটি করেছে? এরপর তারা তাকে জিজ্ঞেস করলে তিনি উত্তর দিলেন, এ সূরাটিতে আল্লাহ্ তা’আলার গুণাবলী রয়েছে। এ জন্য সূরাটি পড়তে আমি ভালোবাসি। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তাঁকে জানিয়ে দাও, আল্লাহ্ তাঁকে ভালবাসেন। [মুসলিম ৬/৪৫, হাঃ ৮১৩]

৩. ইসমে আযমের দু'আ (তিরমিযী হা. ৩৪৭৫)

পরিচ্ছেদঃ ৬৪. নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত বিভিন্ন দু'আর সমষ্টি

اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ بِأَنِّي أَشْهَدُ أَنَّكَ أَنْتَ اللّٰهُ لاَ إِلٰهَ إِلاَّ أَنْتَ الأَحَدُ الصَّمَدُ الَّذِي لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ وَلَمْ يَكُنْ لَهُ كُفُوًا أَحَدٌ

আব্দুল্লাহ বিন বুরাইদাহ (রাঃ) তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন: তিনি একদা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে মাসজিদে প্রবেশ করেন। এমন সময় এক ব্যক্তি সালাত আদায় করছিল আর দু‘আ করে বলছিল: “হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট কামনা করছি ঐ বাক্যসমূহের মাধ্যমে যে, নিশ্চয়ই আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, তুমিই আল্লাহ। তুমি ছাড়া সত্যিকার কোন ইলাহ নেই। তুমি একক, অমুখাপেক্ষী, যিনি কাউকে জন্ম দেননি, তাঁকেও জন্ম দেওয়া হয়নি এবং তাঁর সমকক্ষ কেউ নেই।”
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন : "ঐ সত্তার শপথ যাঁর হাতে আমার প্রাণ! এ ব্যক্তি ইসমে আযমের দ্বারা আল্লাহ তা‘আলার কাছে চেয়েছে। এ নামে চাইলে তিনি দেন আর এ নামে ডাকলে তিনি ডাকে সাড়া দেন।" (আবূ দাঊদ হা. ১৪৯৪, তিরমিযী হা. ৩৪৭৫, ইবনু মাযাহ হা. ৩৮৫৮, সনদ সহীহ)

মূল সনদ ও রাবীদের বিবরণ দেখুন

حَدَّثَنَا جَعْفَرُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عِمْرَانَ الثَّعْلَبِيُّ الْكُوفِيُّ، حَدَّثَنَا زَيْدُ بْنُ حُبَابٍ، عَنْ مَالِكِ بْنِ مِغْوَلٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بُرَيْدَةَ الأَسْلَمِيِّ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ سَمِعَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم رَجُلاً يَدْعُو وَهُوَ يَقُولُ اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ بِأَنِّي أَشْهَدُ أَنَّكَ أَنْتَ اللَّهُ لاَ إِلَهَ إِلاَّ أَنْتَ الأَحَدُ الصَّمَدُ الَّذِي لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ وَلَمْ يَكُنْ لَهُ كُفُوًا أَحَدٌ ‏.‏ قَالَ فَقَالَ ‏ "‏ وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَقَدْ سَأَلَ اللَّهَ بِاسْمِهِ الأَعْظَمِ الَّذِي إِذَا دُعِيَ بِهِ أَجَابَ وَإِذَا سُئِلَ بِهِ أَعْطَى ‏"‏ ‏.‏ قَالَ زَيْدٌ فَذَكَرْتُهُ لِزُهَيْرِ بْنِ مُعَاوِيَةَ بَعْدَ ذَلِكَ بِسِنِينَ فَقَالَ حَدَّثَنِي أَبُو إِسْحَاقَ عَنْ مَالِكِ بْنِ مِغْوَلٍ ‏.‏ قَالَ زَيْدٌ ثُمَّ ذَكَرْتُهُ لِسُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ فَحَدَّثَنِي عَنْ مَالِكٍ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ ‏.‏ وَرَوَى شَرِيكٌ هَذَا الْحَدِيثَ عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ عَنِ ابْنِ بُرَيْدَةَ عَنْ أَبِيهِ وَإِنَّمَا أَخَذَهُ أَبُو إِسْحَاقَ الْهَمْدَانِيُّ عَنْ مَالِكِ بْنِ مِغْوَلٍ وَإِنَّمَا دَلَّسَهُ ‏.‏ وَرَوَى شَرِيكٌ هَذَا الْحَدِيثَ عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ ‏.‏

৪. শয়নকালের আমল (সহীহ বুখারী হা. ৫০১৭)

পরিচ্ছেদঃ ৬৬/১৪. মু‘আব্বিযাত (সূরাহ ফালাক ও সূরাহ নাস)-এর ফযীলত।

قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيْدٍ حَدَّثَنَا الْمُفَضَّلُ بْنُ فَضَالَةَ عَنْ عُقَيْلٍ عَنْ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ عُرْوَةَ عَنْ عَائِشَةَ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ إِذَا أَوَى إِلَى فِرَاشِهِ كُلَّ لَيْلَةٍ جَمَعَ كَفَّيْهِ ثُمَّ نَفَثَ فِيْهِمَا فَقَرَأَ فِيْهِمَا(قُلْ هُوَ اللهُ أَحَدٌ)وَ (قُلْ أَعُوْذُ بِرَبِّ الْفَلَقِ) وَ (قُلْ أَعُوْذُ بِرَبِّ النَّاسِ) ثُمَّ يَمْسَحُ بِهِمَا مَا اسْتَطَاعَ مِنْ جَسَدِهِ يَبْدَأُ بِهِمَا عَلَى رَأْسِهِ وَوَجْهِهِ وَمَا أَقْبَلَ مِنْ جَسَدِهِ يَفْعَلُ ذَلِكَ ثَلَاثَ مَرَّاتٍ

’আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত: প্রতি রাতে নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিছানায় যাওয়ার প্রাক্কালে সূরাহ ইখ্লাস, সূরাহ ফালাক ও সূরাহ নাস পাঠ করে দু’হাত একত্র করে হাতে ফুঁক দিয়ে যতদূর সম্ভব সমস্ত শরীরে হাত বুলাতেন। মাথা ও মুখ থেকে আরম্ভ করে তাঁর দেহের সম্মুখ ভাগের উপর হাত বুলাতেন এবং তিনবার এরূপ করতেন। [৫৭৪৮, ৬৩۱۹]

শানে নুযূল ও চার বৈশিষ্ট্য

শানে নুযূল

জাবের (রাঃ) হতে বর্ণিত: এক গ্রাম্য ব্যক্তি নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট এসে বলল: "তোমার রবের বংশ তালিকা বর্ণনা কর।" তখন এ সূরা অবতীর্ণ হয়। (বায়হাকী ৭/১৪৬, হাসান)

উবাই বিন কাব (রাঃ) হতে বর্ণিত: মুশরিকরা নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলল: "হে মুহাম্মাদ, তোমার রবের বংশ তালিকা বর্ণনা কর।" তখন এ সূরাটি অবতীর্ণ হয়। প্রত্যেক জিনিস যা জন্ম নেয় তা অবশ্যই মারা যাবে এবং যে জিনিস মারা যাবে পরবর্তী বংশধর তার ওয়ারিশ হবে। কিন্তু আল্লাহ তা‘আলা মারা যাবেন না এবং তাঁর ওয়ারিশও কেউ হবে না।

সত্যিকার মা‘বূদের ৪টি বৈশিষ্ট্য

একজন সত্যিকার মা‘বূদের চারটি বৈশিষ্ট্য এ সূরাতে আলোচনা করা হয়েছে। এ চারটি বৈশিষ্ট্য একমাত্র আল্লাহ তা‘আলা ছাড়া অন্য কারো মাঝে পাওয়া যায় না:

প্রথম বৈশিষ্ট্য: তিনি একক ও অদ্বিতীয় (أَحَدٌ)

মা‘বূদ একক হবেন, তার কোন অংশীদার থাকবে না। আল্লাহ তা‘আলা ছাড়া যা কিছুর ইবাদত করা হয় সবই মানুষের বানানো।

مَا تَعۡبُدُوۡنَ مِنۡ دُوۡنِهٖۤ اِلَّاۤ اَسۡمَآءً سَمَّیۡتُمُوۡهَاۤ اَنۡتُمۡ وَ اٰبَآؤُكُمۡ مَّاۤ اَنۡزَلَ اللّٰهُ بِهَا مِنۡ سُلۡطٰنٍ ؕ اِنِ الۡحُكۡمُ اِلَّا لِلّٰهِ ؕ اَمَرَ اَلَّا تَعۡبُدُوۡۤا اِلَّاۤ اِیَّاهُ ؕ ذٰلِكَ الدِّیۡنُ الۡقَیِّمُ وَ لٰكِنَّ اَكۡثَرَ النَّاسِ لَا یَعۡلَمُوۡنَ

‘‘তাঁকে (আল্লাহকে) ছেড়ে তোমরা কেবল কতকগুলো নামের ‘ইবাদত করছ, যে নামগুলো তোমাদের পিতৃপুরুষ ও তোমরা রেখেছ; এগুলোর কোন প্রমাণ আল্লাহ পাঠাননি। বিধান দেবার অধিকার কেবল আল্লাহরই। তিনি আদেশ দিয়েছেন তোমরা একমাত্র তাঁরই ইবাদত করবে এটাই সঠিক দীন কিন্তু অধিকাংশ মানুষ এটা অবগত নয়।’’ (সূরা ইউসুফ ১২: ৪০)

নোট: আল্লাহ তা‘আলার শানে উপযোগী নয় এমন নামে তাঁকে অভিহিত করা যাবে না, বরং কুরআন ও সহীহ হাদীসে বর্ণিত নামেই ডাকতে হবে।

দ্বিতীয় বৈশিষ্ট্য: তিনি অমুখাপেক্ষী (الصَّمَدُ)

তিনি কোন কিছুর মুখাপেক্ষী হবেন না। তিনি খাবার, পানীয় ও নিজ প্রয়োজন পূরণের জন্য অন্যের সহযোগিতা থেকে মুক্ত। মুজাহিদসহ অনেক মুফাসসির বলেছেন: সামাদ হলেন তিনি যার মাঝে কোন শূন্যতা নেই। (ইবনু জারীর /২২২)

তৃতীয় বৈশিষ্ট্য: তিনি জন্ম দেননি ও জন্ম নেননি (لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ)

তার কোন স্ত্রী-সন্তান নেই এবং তাঁকে কেউ জন্ম দিতে পারে না।

بَدِيعُ ٱلسَّمَـٰوَٲتِ وَٱلْأَرْضِ‌ۖ أَنَّىٰ يَكُونُ لَهُۥ وَلَدٌ وَلَمْ تَكُن لَّهُۥ صَـٰحِبَةٌ‌ۖ وَخَلَقَ كُلَّ شَىْءٍ‌ۖ وَهُوَ بِكُلِّ شَىْءٍ عَلِيمٌ

“তিনি আসমান ও জমিনের স্রষ্টা, তাঁর সন্তান হবে কিরূপে? অথচ তাঁর তো কোন স্ত্রী নেই। তিনিই তো সমস্ত কিছু সৃষ্টি করেছেন এবং প্রত্যেক বস্তু সমন্ধে তিনিই সবিশেষ অবহিত।” (সূরা আন‘আম ৬: ১০১)

وَ قَالُوا اتَّخَذَ الرَّحۡمٰنُ وَلَدًا (৮৮) لَقَدۡ جِئۡتُمۡ شَیۡئًا اِدًّا (৮৯) تَكَادُ السَّمٰوٰتُ یَتَفَطَّرۡنَ مِنۡهُ وَ تَنۡشَقُّ الۡاَرۡضُ وَ تَخِرُّ الۡجِبَالُ هَدًّا (৯০) اَنۡ دَعَوۡا لِلرَّحۡمٰنِ وَلَدًا (৯১) وَ مَا یَنۡۢبَغِیۡ لِلرَّحۡمٰنِ اَنۡ یَّتَّخِذَ وَلَدًا (৯২) اِنۡ كُلُّ مَنۡ فِی السَّمٰوٰتِ وَ الۡاَرۡضِ اِلَّاۤ اٰتِی الرَّحۡمٰنِ عَبۡدًا (৯৩)

“তারা বলে, ‘দয়াময় সন্তান গ্রহণ করেছেন।’ তোমরা এমন এক বীভৎস বিষয়ের অবতারণা করেছ; যাতে আকাশসমূহ বিদীর্ণ হবে, পৃথিবী খণ্ড-বিখণ্ড হবে ও পর্বতগুলো চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে পতিত হবে, যেহেতু তারা দয়াময়ের প্রতি সন্তান আরোপ করে। অথচ সন্তান গ্রহণ করা দয়াময়ের জন্য শোভনীয় নয়! আকাশসমূহ ও পৃথিবীতে এমন কেউ নেই, যে দয়াময়ের নিকট বান্দারূপে উপস্থিত হবে না।” (সূরা মারইয়াম ৮৮-৯৩)

হাদীসে কুদসী (সহীহ বুখারী হা. ৪৯৭৪)
أَبُو الْيَمَانِ حَدَّثَنَا شُعَيْبٌ حَدَّثَنَا أَبُو الزِّنَادِ عَنِ الْأَعْرَجِ عَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ قَالَ اللهُ كَذَّبَنِي ابْنُ آدَمَ وَلَمْ يَكُنْ لَهُ ذَلِكَ وَشَتَمَنِيْ وَلَمْ يَكُنْ لَهُ ذَلِكَ...

আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন, আল্লাহ তা‘আলা বলেন: "আদম সন্তান আমাকে অবিশ্বাস করে অথচ এটা তার জন্য সমীচীন নয়। সে আমাকে গালি দেয় অথচ এটাও তার জন্য সমীচীন নয়। আমাকে অবিশ্বাস করার অর্থ হলো সে বলে : আমাকে আল্লাহ তা‘আলা পুনরায় সৃষ্টি করতে পারবেন না... আর আমাকে গালি দেয়ার অর্থ হলো : সে বলে : আমার নাকি সন্তান আছে, অথচ আমি একক, অদ্বিতীয়, অমুখাপেক্ষী, আমার কোন সন্তান নেই, আমাকে কেউ জন্ম দেয়নি এবং আমার সমকক্ষ ও সমতুল্য কেউ নেই।"

চতুর্থ বৈশিষ্ট্য: তাঁর সমতুল্য কেউ নেই (وَلَمْ يَكُن لَّهُۥ كُفُوًا أَحَدٌ)

সত্ত্বা, গুণাবলী ও কাজকর্ম অন্য কোনো কিছুরই সমতুল্য ও সমকক্ষ হবে না।

لَيْسَ كَمِثْلِه۪ شَيْءٌ وَهُوَ السَّمِيْعُ الْبَصِيْرُ

“কোন কিছুই তাঁর সদৃশ নয়, তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা”। (সূরা শুরা ৪২: ১১)

আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়

  • সূরার ফযীলত অনেক (নেকীর দিক দিয়ে কুরআনের এক তৃতীয়াংশের সমান)।
  • যারা এ সূরাকে ভালবেসে আমল করবে, আল্লাহ তা‘আলাও তাঁকে ভালবেসে জান্নাত দেবেন।
  • আল্লাহ তা‘আলাই সকল ইবাদত পাওয়ার একমাত্র যোগ্য, কারণ চার বৈশিষ্ট্য কেবল তাঁর মাঝেই আছে।
  • তাওহীদ: সূরাটি তাওহীদের মূল সারকথা। তিনি একক, অদ্বিতীয় ও অতুলনীয়।
  • আস-সামাদ: এমন সত্তা যিনি কারোর মুখাপেক্ষী নন; মানুষ, ফেরেশতা, জ্বিন সবই তাঁর উপর নির্ভরশীল।
  • তিনি চিরন্তন ও শাশ্বত; মুশরিকদের ভুল ধারণাকে খণ্ডন করে যে তাঁর কোনো সন্তান বা সমকক্ষ আছে।
  • তাঁর সত্তা, গুণাবলি, কর্মকাণ্ড—সবই অপরূপ ও অতুলনীয়।

Top


বই নোট: ইসলামী সংগঠন

লেখক: অধ্যাপক এ কে এম নাজির আহমদ | প্রকাশনী: বাংলাদেশ ইসলামিক সেন্টার

ইসলামী সংগঠনের গুরুত্ব

সংগঠন শব্দের অর্থ: সংঘবদ্ধ করণ।

সংজ্ঞা: ইকামাতে দ্বীনের কাজ আঞ্জাম দেয় যে সংগঠন তাকেই বলা হয় ইসলামী সংগঠন।

  • ইসলামী সংগঠনের অন্তর্ভুক্ত হয়ে ইকামাতে দীনের সংগ্রামে আত্মনিয়োগ করা প্রত্যেক মুমিনের জন্য ফরয।
  • সংঘবদ্ধ প্রচেষ্টা ছাড়া আল্লাহর যমীনে আল্লাহর দীন কায়েম হতে পারে না।
  • সংগঠিত উদ্যোগ ছাড়া ইসলামের শ্রেষ্ঠত্ব ও সৌন্দর্য বিকাশ সাধন সম্ভবপর নয়।

আল্লাহর নির্দেশ

وَٱعْتَصِمُواْ بِحَبْلِ ٱللَّهِ جَمِيعًا وَلَا تَفَرَّقُواْ‌ۚ وَٱذْكُرُواْ نِعْمَتَ ٱللَّهِ عَلَيْكُمْ إِذْ كُنتُمْ أَعْدَآءً فَأَلَّفَ بَيْنَ قُلُوبِكُمْ فَأَصْبَحْتُم بِنِعْمَتِهِۦٓ إِخْوَٲنًا وَكُنتُمْ عَلَىٰ شَفَا حُفْرَةٍ مِّنَ ٱالنَّارِ فَأَنقَذَكُم مِّنْهَا‌ۗ كَذَٲلِكَ يُبَيِّنُ ٱللَّهُ لَكُمْ ءَايَـٰتِهِۦ لَعَلَّكُمْ تَهْتَدُونَ

"আর তোমরা সকলে আল্লাহর রশি দৃঢ়ভাবে ধারণ কর এবং পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ো না। আর তোমাদের প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহ স্মরণ কর, তোমরা ছিলে পরস্পর শত্রু অতঃপর তিনি তোমাদের হৃদয়ে প্রীতির সঞ্চার করেন, ফলে তার অনুগ্রহে তোমরা পরস্পর ভাই হয়ে গেলে..." (সূরা আল-ইমরান: ১০৩)

রাসুলুল্লাহ (সা:)-এর বাণী

  • তিন জন হলেও জামায়াতী জীবন যাপন করা।
  • জান্নাতের স্বাদ উপভোগের জন্য জামায়াতবদ্ধ থাকা।
  • সংগঠন সম্পর্কে উমর (রা:)-এর বার্তা।

ইসলামী সংগঠনের উপাদান

  1. ইসলামী নেতৃত্ব।
  2. ইসলামী কর্মী বাহিনী।
  3. ইসলামী পরিচালনা বিধি।

ইসলামী সংগঠন ও ইকামতে দ্বীন

  • Societal Revolution: সমাজের চাকা গতিশীল।
  • অশান্তির মূল কারণ ইসলামের অনুপস্থিতি।
  • বিপ্লবের জন্যই ইসলামের আবির্ভাব।
  • বিপ্লবের পন্থা বাতলানোর জন্য নবী-রাসূলগণের আগমন।
  • দাওয়াত, সংগঠন ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সমাজ বিপ্লব ও শান্তি প্রতিষ্ঠা।

ইসলামী সংগঠনের লক্ষ্য

  1. আল্লাহর সন্তোষ অর্জনের উপায় মানব সৃষ্টির উদ্দেশ্য সাধন—আর তা আব্দ হিসেবে আল্লাহর বিধান মোতাবেক আত্মগঠন, পরিবার গঠন, দল গঠন ও রাষ্ট্র গঠন।
  2. ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে না পারলেও হতাশার কোনো কারণ নেই।

নেতৃত্ব কাঠামো ও নির্বাচন

নেতৃত্ব কাঠামো

  • নেতা একজন।
  • আমীর নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত হন।
  • প্রয়োজনে প্যানেল থাকতে পারে।

নেতৃত্ব নির্বাচনের মূলভিত্তি

  1. তাকওয়া।
  2. যোগ্যতম ব্যক্তি।
  3. কোনো ক্যানভাস বা প্রচার-প্রচারণা নেই।
  4. নিজ থেকে প্রার্থী হওয়া যায় না।

ইসলামী নেতৃত্বের গুণাবলী

  • জ্ঞানের ক্ষেত্রে শ্রেষ্ঠত্ব
  • উন্নত আমল
  • নম্র ব্যবহার
  • সাহসিকতা
  • সময়ানুবর্তিতা
  • সাংগঠনিক প্রজ্ঞা
  • প্রেরণা সৃষ্টির যোগ্যতা
  • সু-ভাষণ
  • নথিপত্র সংরক্ষণে পারদর্শিতা
  • হিসাব সংরক্ষণে পারদর্শিতা

ইসলামী নেতৃত্বের প্রধান ভূমিকা

(নেতৃত্বকে কেন্দ্র করেই সকল কাজ আবর্তিত হয়)

  1. তাকওয়া বৃদ্ধি।
  2. উখুয়াত (ভ্রাতৃত্ব) সৃষ্টি।
  3. ত্যাগের অনুপ্রেরণা সৃষ্টি।
  4. কর্মীদের মাঝে ইনসাফ কায়েম।
  5. বিপদ-মুসিবতে ধৈর্য অবলম্বনের তালীম।
  6. আল্লাহর সন্তোষ অর্জনকেই সকল তৎপরতার কেন্দ্রবিন্দু রূপে উপস্থাপন।

ইসলামী নেতৃত্বের জবাবদিহিতা

নেতৃত্বকে সর্বদা জবাবদিহি করতে প্রস্তুত থাকতে হবে দুই স্থানে:

  • ইলেকটরল কলেজ বা নির্বাচক মণ্ডলীর নিকট।
  • আল্লাহর নিকট।

আনুগত্য, পদলোভ ও পরামর্শ

আনুগত্যের স্তরক্রম

  1. আল্লাহর আনুগত্য।
  2. রাসূলের (সা:) আনুগত্য।
  3. উলিল আমর বা দায়িত্বশীলদের আনুগত্য।

ইসলামী সংগঠনে পদলোভীর স্থান

  • আত্মপূজারী বা স্বার্থান্ধ ব্যক্তিই নেতৃত্বের লোভ পোষণ করে।
  • যে পদ চায়, তাকে পদ দেওয়া যাবে না।
  • দুইজনের বাইয়াত গ্রহণ করা হলে, যার বাইয়াত শেষে গ্রহণ করা হয়েছে তার বিরুদ্ধে লড়াই করার নির্দেশ।
  • জনসমর্থনপুষ্ট একজন আমীর বিদ্যমান থাকা অবস্থায় দ্বিতীয় কোনো ব্যক্তিকে আমীর হিসেবে স্বীকার করা যাবে না।
  • পদলোভী ব্যক্তি আখিরাত বরবাদ করে।

পরামর্শ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া

পরামর্শ: ইসলামী আন্দোলনের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো পরামর্শ দেওয়া ও নেওয়া।

সিদ্ধান্ত গ্রহণের মূলনীতি:

  1. পূর্ব প্রতিষ্ঠিত কোনো ধারণা নিয়ে সভায় না আসা।
  2. ঈমান, ইলম ও নিরপেক্ষ চিন্তা নিয়ে মতামত দেওয়া; লোভ, ভয় বা কোন্দলে পড়ে প্রকৃত মনোভাবের বিপরীতে মতামত না দেওয়া।
  3. মনোযোগ সহকারে একে অন্যের বক্তব্য শ্রবণ ও সঠিক অর্থ অনুধাবন করা।
  4. নিঃসংকোচে মতামত পেশ করা।
  5. উত্তমের মোকাবেলায় নিজের মতের কোরবানি দেওয়া।
  6. সর্বসম্মত সিদ্ধান্তের চেষ্টা করা।
  7. সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত না হলে সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের আলোকে দ্বি-মত পোষণ ভুলে যাওয়া।
  8. আমীর দ্বিমত পোষণ করলে সদস্যদের সাথে সাধারণ পরামর্শ গ্রহণ করা।

এহতেসাব (আত্মসমালোচনা) ও কর্মী পরিচালনা

ইসলামী সংগঠনের এহতেসাব

  • ভুল-ভ্রান্তি হওয়া স্বাভাবিক, এর সংশোধনের জন্য এহতেসাব প্রয়োজন।
  • এহতেসাব হলো মুমিনদের জন্য আয়না স্বরূপ।

কর্মী পরিচালনার ২৮টি পদ্ধতি

  1. আদর্শের আলোকে মন-মানসিকতা গঠন।
  2. ইসলামী আন্দোলন ও সংগঠন সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা দান।
  3. ইসলামের বুনিয়াদী নির্দেশগুলো নিজ জীবনে বাস্তবায়নে উদ্বুদ্ধকরণ।
  4. মর্ম উপলব্ধি করে নিয়মিত আল-কুরআন ও আল-হাদীস অধ্যয়নে উদ্বুদ্ধকরণ।
  5. জামায়াতের সাথে সালাত আদায়ে উদ্বুদ্ধকরণ।
  6. আত্মসমালোচনায় উদ্বুদ্ধকরণ।
  7. দাওয়াতী কাজে উদ্বুদ্ধকরণ।
  8. দাওয়াতী কাজে সহযোগিতা দান।
  9. দাওয়াতী কাজের রিপোর্ট গ্রহণ।
  10. ইনফাক ফী সাবীলিল্লাহর (আল্লাহর পথে দান) জন্য উদ্বুদ্ধকরণ।
  11. সুশৃঙ্খল জীবনযাপনে উদ্বুদ্ধকরণ।
  12. সময় সচেতনতা সৃষ্টি।
  13. পরিচ্ছন্ন মনের অধিকারী হওয়ার জন্য উদ্বুদ্ধকরণ।
  14. কাজের পরিকল্পনা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা দান।
  15. সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব অর্পণ।
  16. দায়িত্ব পালনে উদ্বুদ্ধকরণ।
  17. কাজের তদারকি করণ।
  18. কাজের রিপোর্ট গ্রহণ।
  19. রিপোর্ট পর্যালোচনা।
  20. সমাজকর্মীরূপে ভূমিকা পালনে উদ্বুদ্ধকরণ।
  21. ব্যাপক পরিচিতি অর্জনে উদ্বুদ্ধকরণ।
  22. কর্মীকে সুবক্তারূপে গড়ে তোলা।
  23. স্ব-চালিত কর্মীরূপে আত্মগঠনে উদ্বুদ্ধকরণ।
  24. নতুন কর্মী গঠনের জন্য উদ্বুদ্ধকরণ।
  25. সংগঠনের বক্তব্য যথাসম্ভব দ্রুত অবহিতকরণ।
  26. নিষ্ক্রিয় কর্মীর সাথে দ্রুত যোগাযোগ স্থাপন।
  27. পরামর্শ শ্রবণ।
  28. অগ্রসর কর্মীকে সাংগঠনিক প্রশিক্ষণ দান।

ইসলামী সংগঠনের কর্মীদের পরীক্ষা

  • পরীক্ষা মূলত ঈমান ও যোগ্যতার যাচাইয়ের জন্য।
  • প্রতিকূল পরিস্থিতিই কর্মীদের জন্য পরীক্ষা।
  • সত্যিকারে কারা বিশ্বস্ত তা দুনিয়াবাসীর কাছে পরিষ্কার করার জন্য এই পরীক্ষা।

বায়তুলমাল, কর্মী গঠন ও সাংগঠনিক সংহতি

ইসলামী সংগঠনে বাইতুলমাল

  1. বাইতুলমালের আয়ের প্রধান উৎস কর্মীদের ইনফাক ফী সাবীলিল্লাহ (আল্লাহর পথে অর্থদান)।
  2. সংগঠনের কর্মীরা মাল ও জান দিয়ে আল্লাহর পথে সংগ্রাম করে।
  3. তাদের মাল ও জান আল্লাহ জান্নাতের বিনিময়ে খরিদ করে নিয়েছেন।

কর্মীর আত্মগঠনের ১৩টি উপায়

  1. আল্লাহর দিকে আহ্বান।
  2. একাগ্রতার সাথে সালাত আদায়।
  3. আল-কুরআন অধ্যয়ন।
  4. আল-হাদীস অধ্যয়ন।
  5. সহায়ক সাহিত্য অধ্যয়ন।
  6. রাত্রি জাগরণ (তাহাজ্জুদ)।
  7. আল্লাহর পথে অর্থ দান।
  8. সকল কাজে আল্লাহকে স্মরণ।
  9. রাসূলের (সা:) প্রতি দরূদ পড়া।
  10. আত্মসমালোচনা।
  11. সাওম পালন।
  12. মৌলিক মানবীয় গুণ অর্জন।
  13. পারস্পরিক সম্পর্ক বিনষ্টকারী কাজ বর্জন:
    • অশালীন ও অশোভন কথাবার্তা
    • গীবত
    • আন্দাজ-অনুমান
    • হিংসা, রাগ ও অহংকার

কর্মী গঠনের ৭টি ধাপ

  1. সাহচর্য দান:
    • অন্তর্দ্বন্দ্ব নিরসন
    • মানসিক দৃঢ়তা অর্জনে সহযোগিতা
  2. সাংগঠনিক পরিবেশে আনয়ন।
  3. ছোটখাটো দায়িত্ব অর্পণ।
  4. অর্থদানে উদ্বুদ্ধকরণ।
  5. প্রাথমিক প্রশিক্ষণ প্রদান।
  6. আহ্বান জ্ঞাপনের দায়িত্ব অর্পণ।
  7. কাজের রিপোর্ট গ্রহণ।

কর্মীর মানোন্নয়ন ও সংহতির অন্তরায়

মানোন্নয়নের ৬টি মাধ্যম:

১. সাপ্তাহিক সভা | ২. শিক্ষা বৈঠক | ৩. পাঠচক্র | ৪. দীর্ঘ প্রশিক্ষণ শিবির | ৫. বক্তৃতা অনুশীলন চক্র | ৬. ব্যক্তিগত আলাপ, জিজ্ঞাসা ও পরামর্শ দান।

সংহতি বিনষ্টের কারণসমূহ:

  1. লক্ষ্য সম্পর্কে অস্পষ্টতা ও বৈশিষ্ট্যসমূহের অপূর্ণাঙ্গ ধারণা।
  2. কর্মপদ্ধতি সম্পর্কে সংশয় ও বিপদ-মুসিবতে সঠিক দৃষ্টিভঙ্গির অভাব।
  3. অগ্রাধিকার নির্ধারণে অক্ষমতা।
  4. মানসিক ভারসাম্যহীনতা (ত্বরা প্রবণতা, অতি আশা, চরমপন্থার ঝোঁক, অহংকার, অভিমান)।
  5. মুখোশধারী শত্রু: এরা সংগঠনে ঢুকে দায়িত্বশীলদের আনুগত্যে আঘাত হানে, কর্মী-নেতার মধ্যে সংশয় তৈরি করে এবং আঘাত হানতে ঘুপটি মেরে বসে থাকে।
    দৃষ্টান্ত: যায়নাব (রা:)-এর বিয়ে এবং আয়িশা (রা:)-এর বিরুদ্ধে অপবাদ (ইফকের ঘটনা)।

সংগঠনের বর্ধন, মধ্যবর্তী স্তর ও সিলেবাস

ইসলামী সংগঠনের স্বাভাবিক বর্ধন (৪টি পর্যায়)

ক্রমবিকাশের জন্য নিরলস কর্মী বাহিনী ও সময়ের প্রয়োজন। কুরআনে উল্লিখিত ৪টি পর্যায়:

  1. অংকুর বের করা
  2. শক্তি অর্জন করা
  3. মোটা-তাজা হওয়া
  4. কাণ্ডের উপর দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে যাওয়া

মধ্যবর্তী স্তরের সংগঠনের ৩ প্রধান কাজ

  1. ঊর্ধ্বতন সংগঠনের সাথে সম্পর্কিত কাজ।
  2. নিজস্ব স্তরে করণীয় কাজ।
  3. অধস্তন সংগঠনের সাথে সম্পর্কিত কাজ।

Top

মুখস্ত করার নির্দেশিকা (সিলেবাস)

আন্দোলন সংক্রান্ত আয়াত মুখস্ত

فَلْيُقَاتِلْ فِي سَبِيلِ اللَّهِ الَّذِينَ يَشْرُونَ الْحَيَاةَ الدُّنْيَا بِالْآخِرَةِ ۚ وَمَن يُقَاتِلْ فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَيُقْتَلْ أَوْ يَغْلِبْ فَسَوْفَ نُؤْتِيهِ أَجْرًا عَظِيمًا

সুতরাং যারা আখিরাতের বিনিময়ে দুনিয়ার জীবন বিক্রয় করে তারা যেন আল্লাহর রাস্তায় লড়াই করে। আর যে আল্লাহর রাস্তায় লড়াই করবে অতঃপর সে নিহত হোক কিংবা বিজয়ী, অচিরেই আমি তাকে দেব মহা পুরস্কার। (সূরা নিসা: ৭৪)

وَمَا لَكُمْ لَا تُقَاتِلُونَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَالْمُسْتَضْعَفِينَ مِنَ الرِّجَالِ وَالنِّسَاءِ وَالْوِلْدَانِ الَّذِينَ يَقُولُونَ رَبَّنَا أَخْرِجْنَا مِنْ هَٰذِهِ الْقَرْيَةِ الظَّالِمِ أَهْلُهَا وَاجْعَل لَّنَا مِن لَّدُنكَ وَلِيًّا وَاجْعَل لَّنَا مِن لَّدُنكَ نَصِيرًا

তোমাদের কী হয়েছে যে, তোমরা আল্লাহর পথে এবং অসহায় নারী-পুরুষ আর শিশুদের (রক্ষার) জন্য লড়াই করবে না, যারা দু‘আ করছে- ‘হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদেরকে এ যালিম অধ্যূষিত জনপথ হতে মুক্তি দাও, তোমার পক্ষ হতে কাউকেও আমাদের বন্ধু বানিয়ে দাও এবং তোমার পক্ষ হতে কাউকেও আমাদের সাহায্যকারী করে দাও। (সূরা নিসা: ৭৫)

ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ يُقَـٰتِلُونَ فِى سَبِيلِ ٱللَّهِ‌ۖ وَٱلَّذِينَ كَفَرُواْ يُقَـٰتِلُونَ فِى سَبِيلِ ٱلطَّـٰغُوتِ فَقَـٰتِلُوٓاْ أَوْلِيَآءَ ٱلشَّيْطَـٰنِ‌ۖ إِنَّ كَيْدَ ٱلشَّيْطَـٰنِ كَانَ ضَعِيفًا

যারা ঈমান এনেছে তারা লড়াই করে আল্লাহর রাস্তায়, আর যারা কুফরী করেছে তারা লড়াই করে তাগূতের পথে। সুতরাং তোমরা লড়াই কর শয়তানের বন্ধুদের বিরুদ্ধে। নিশ্চয় শয়তানের চক্রান্ত দুর্বল।(সূরা নিসা: ৭৬)

قُلْ إِن كَانَ ءَابَآؤُكُمْ وَأَبْنَآؤُكُمْ وَإِخْوَٲنُكُمْ وَأَزْوَٲجُكُمْ وَعَشِيرَتُكُمْ وَأَمْوَٲلٌ ٱقْتَرَفْتُمُوهَا وَتِجَـٰرَةٌ تَخْشَوْنَ كَسَادَهَا وَمَسَـٰكِنُ تَرْضَوْنَهَآ أَحَبَّ إِلَيْكُم مِّنَ ٱللَّهِ وَرَسُولِهِۦ وَجِهَادٍ فِى سَبِيلِهِۦ فَتَرَبَّصُواْ حَتَّىٰ يَأْتِىَ ٱللَّهُ بِأَمْرِهِۦ‌ۗ وَٱللَّهُ لَا يَهْدِى ٱلْقَوْمَ ٱلْفَـٰسِقِينَ

বলুন, তোমাদের নিকট যদি আল্লাহ, তার রাসূল এবং তাঁর (আল্লাহর) পথে জিহাদ করার চেয়ে বেশী প্রিয় হয় তোমাদের পিতৃবর্গ, তোমাদের সন্তানরা, তোমাদের ভ্রাতাগণ, তোমাদের স্ত্রীগণ, তোমাদের আপনগোষ্ঠী, তোমাদের অর্জিত সম্পদ, তোমাদের ব্যবসা-বাণিজ্য যার মন্দা পড়ার আশংকা কর এবং তোমাদের বাসস্থান যা তোমরা ভালবাস , তবে অপেক্ষা কর আল্লাহ্ তাঁর নির্দেশ নিয়ে আসা পর্যন্ত আর আল্লাহ ফাসিক সম্প্রদায়কে হেদায়াত দেন না। সূরা আত-তাওবা: ২৪

يَـٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ مَا لَكُمْ إِذَا قِيلَ لَكُمُ ٱنفِرُواْ فِى سَبِيلِ ٱللَّهِ ٱثَّاقَلْتُمْ إِلَى ٱلْأَرْضِ‌ۚ أَرَضِيتُم بِٱلْحَيَوٲةِ ٱلدُّنْيَا مِنَ ٱلْأَخِرَةِ‌ۚ فَمَا مَتَـٰعُ ٱلْحَيَوٲةِ ٱلدُّنْيَا فِى ٱلْأَخِرَةِ إِلَّا قَلِيلٌ

হে বিশ্বাসীগণ! তোমাদের কি হলো যে, যখন তোমাদেরকে আল্লাহর পথে (জিহাদে) বের হতে বলা হয়, তখন তোমরা ভারাক্রান্ত হয়ে মাটিতে বসে পড়। তবে কি তোমরা পরকালের বিনিময়ে পার্থিব জীবন নিয়ে পরিতুষ্ট হয়ে গেলে? বস্তুতঃ পার্থিব জীবনের ভোগবিলাস তো পরকালের তুলনায় অতি সামান্য। সূরা আত-তাওবা: ৩৮

إِلَّا تَنفِرُواْ يُعَذِّبْكُمْ عَذَابًا أَلِيمًا وَيَسْتَبْدِلْ قَوْمًا غَيْرَكُمْ وَلَا تَضُرُّوهُ شَيْــًٔا‌ۗ وَٱللَّهُ عَلَىٰ كُلِّ شَىْءٍ قَدِيرٌ

যদি তোমরা (জিহাদে) বের না হও, তাহলে আল্লাহ তোমাদেরকে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি প্রদান করবেন এবং তোমাদের পরিবর্তে অন্য এক জাতি সৃষ্টি করবেন, আর তোমরা তাঁর কোনই ক্ষতি করতে পারবে না। আর আল্লাহ সর্ববিষয়ে শক্তিমান। সূরা আত-তাওবা: ৩৯

إِلَّا تَنصُرُوهُ فَقَدْ نَصَرَهُ ٱللَّهُ إِذْ أَخْرَجَهُ ٱلَّذِينَ كَفَرُواْ ثَانِىَ ٱثْنَيْنِ إِذْ هُمَا فِى ٱلْغَارِ إِذْ يَقُولُ لِصَـٰحِبِهِۦ لَا تَحْزَنْ إِنَّ ٱللَّهَ مَعَنَا‌ۖ فَأَنزَلَ ٱللَّهُ سَكِينَتَهُۥ عَلَيْهِ وَأَيَّدَهُۥ بِجُنُودٍ لَّمْ تَرَوْهَا وَجَعَلَ كَلِمَةَ ٱلَّذِينَ كَفَرُواْ ٱلسُّفْلَىٰ‌ۗ وَكَلِمَةُ ٱللَّهِ هِىَ ٱلْعُلْيَا‌ۗ وَٱللَّهُ عَزِيزٌ حَكِيمٌ

যদি তোমরা তাকে (রাসূলুল্লাহকে) সাহায্য না কর, তাহলে আল্লাহই (তাকে সাহায্য করবেন যেমন তিনি) তাকে সাহায্য করেছিলেন সেই সময়ে, যখন অবিশ্বাসীরা তাকে (মক্কা হতে) বহিষ্কার করে দিয়েছিল, যখন সে ছিল দুজনের মধ্যে একজন; যখন উভয়ে গুহার মধ্যে ছিল। সে তখন স্বীয় সঙ্গী (আবু বাকর)কে বলেছিল, ‘তুমি বিষণ্ন হয়ো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ আমাদের সঙ্গে রয়েছেন। অতঃপর আল্লাহ তার প্রতি স্বীয় সান্ত্বনা অবতীর্ণ করলেন এবং এমন সেনাদল দ্বারা তাকে শক্তিশালী করলেন, যাদেরকে তোমরা দেখতে পাওনি এবং তিনি অবিশ্বাসীদের বাক্য নীচু করে দিলেন, আর আল্লাহর বাণীই সমুচ্চ রইল। আর আল্লাহ পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়। সূরা আত-তাওবা: ৪০

ٱنفِرُواْ خِفَافًا وَثِقَالاً وَجَـٰهِدُواْ بِأَمْوَٲلِكُمْ وَأَنفُسِكُمْ فِى سَبِيلِ ٱللَّهِ‌ۚ ذَٲلِكُمْ خَيْرٌ لَّكُمْ إِن كُنتُمْ تَعْلَمُونَ

অভিযানে বের হয়ে পড়, হালকা অবস্থায় হোক বা ভারি অবস্থায় এবং জিহাদ কর আল্লাহ্র পথে তোমাদের সম্পদ ও জীবন দ্বারা। এটাই তোমাদের জন্য উত্তম, যদি তোমরা জানতে! সূরা আত-তাওবা: ৪১

هُوَ ٱلَّذِىٓ أَرْسَلَ رَسُولَهُۥ بِٱلْهُدَىٰ وَدِينِ ٱلْحَقِّ لِيُظْهِرَهُۥ عَلَى ٱلدِّينِ كُلِّهِۦ وَلَوْ كَرِهَ ٱلْمُشْرِكُونَ
يَـٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ هَلْ أَدُلُّكُمْ عَلَىٰ تِجَـٰرَةٍ تُنجِيكُم مِّنْ عَذَابٍ أَلِيمٍ
تُؤْمِنُونَ بِٱللَّهِ وَرَسُولِهِۦ وَتُجَـٰهِدُونَ فِى سَبِيلِ ٱللَّهِ بِأَمْوَٲلِكُمْ وَأَنفُسِكُمْ‌ۚ ذَٲلِكُمْ خَيْرٌ لَّكُمْ إِن كُنتُمْ تَعْلَمُونَ
يَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَيُدْخِلْكُمْ جَنَّـٰتٍ تَجْرِى مِن تَحْتِهَا ٱلْأَنْهَـٰرُ وَمَسَـٰكِنَ طَيِّبَةً فِى جَنَّـٰتِ عَدْنٍ‌ۚ ذَٲلِكَ ٱلْفَوْزُ ٱلْعَظِيمُ

(৯) তিনিই তাঁর রসূলকে হিদায়াত ও সত্য দীনসহ পাঠিয়েছেন তাকে সকল দীনের উপর বিজয়ী করার জন্য- যদিও মুশরিকরা (তা) অপছন্দ করে।

(১০) হে মু’মিনগণ! আমি কি তোমাদেরকে এমন এক ব্যবসায়ের সন্ধান দেব যা তোমাদেরকে মর্মান্তিক ‘আযাব থেকে রক্ষা করবে?

(১১) (তা এই যে,) তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রসূলে বিশ্বাস স্থাপন করবে এবং তোমাদের ধন-সম্পদ ও জীবন দ্বারা আল্লাহর পথে জিহাদ করবে। এটাই তোমাদের জন্য শ্রেয়, যদি তোমরা জানতে।

(১২) আল্লাহ তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করে দেবেন এবং তোমাদেরকে প্রবেশ করাবেন জান্নাতে যার পাদদেশে নদী প্রবাহিত, এবং স্থায়ী জান্নাতের উত্তম বাসগৃহে। এটাই মহাসাফল্য।

সূরা আস-সাফ: ৯-১২

شَرَعَ لَكُم مِّنَ ٱلدِّينِ مَا وَصَّىٰ بِهِۦ نُوحًا وَٱلَّذِىٓ أَوْحَيْنَآ إِلَيْكَ وَمَا وَصَّيْنَا بِهِۦٓ إِبْرَٲهِيمَ وَمُوسَىٰ وَعِيسَىٰٓ‌ۖ أَنْ أَقِيمُواْ ٱلدِّينَ وَلَا تَتَفَرَّقُواْ فِيهِ‌ۚ كَبُرَ عَلَى ٱلْمُشْرِكِينَ مَا تَدْعُوهُمْ إِلَيْهِ‌ۚ ٱللَّهُ يَجْتَبِىٓ إِلَيْهِ مَن يَشَآءُ وَيَهْدِىٓ إِلَيْهِ مَن يُنِيب

তিনি তোমাদের জন্য বিধিবদ্ধ করেছেন দ্বীন, যার নির্দেশ দিয়েছিলেন তিনি নূহকে, আর যা আমরা ওহী করেছি আপনাকে এবং যার নির্দেশ দিয়েছিলাম ইবরাহীম, মুসা ও ঈসাকে, এ বলে যে, তোমরা দ্বীনকে প্রতিষ্ঠিত কর এবং তাতে বিভেদ সৃষ্টি কর না। আপনি মুশরিকদেরকে যার প্রতি ডাকছেন তা তাদের কাছে কঠিন মনে হয়। আল্লাহ যাকে ইচ্ছে তার দ্বীনের প্রতি আকৃষ্ট করেন এবং যে তাঁর অভিমুখী হয় তাকে তিনি দ্বীনের দিকে হেদায়াত করেন।

সূরা আশ-শুরা: ১৩

وَجَـٰهِدُواْ فِى ٱللَّهِ حَقَّ جِهَادِهِۦ‌ۚ هُوَ ٱجْتَبَـٰكُمْ وَمَا جَعَلَ عَلَيْكُمْ فِى ٱلدِّينِ مِنْ حَرَجٍ‌ۚ مِّلَّةَ أَبِيكُمْ إِبْرَٲهِيمَ‌ۚ هُوَ سَمَّـٰكُمُ ٱلْمُسْلِمِينَ مِن قَبْلُ وَفِى هَـٰذَا لِيَكُونَ ٱلرَّسُولُ شَهِيدًا عَلَيْكُمْ وَتَكُونُواْ شُهَدَآءَ عَلَى ٱلنَّاسِ‌ۚ فَأَقِيمُواْ ٱلصَّلَوٲةَ وَءَاتُواْ ٱلزَّكَوٲةَ وَٱعْتَصِمُواْ بِٱللَّهِ هُوَ مَوْلَـٰكُمْ‌ۖ فَنِعْمَ ٱلْمَوْلَىٰ وَنِعْمَ ٱلنَّصِيرُ

আর জিহাদ কর আল্লাহর পথে যেভাবে জিহাদ করা উচিত তিনি তোমাদেরকে মনোনীত করেছেন । তিনি দ্বীনের ব্যাপারে তোমাদের উপর কোন সংকীর্ণতা রাখেননি । তোমাদের পিতা ইবরাহীমের মিল্লাত । তিনি আগে তোমাদের নামকরণ করেছেন ‘মুসলিম’ এবং এ কিতাবেও যাতে রাসূল তোমাদের জন্য সাক্ষীস্বরূপ হন এবং তোমরা সাক্ষীস্বরূপ হও মানুষের জন্য। কাজেই তোমরা সালাত কায়েম কর, যাকাত দাও এবং আল্লাহকে মজবুতভাবে অবলম্বন কর ; তিনিই তোমাদের অভিভাবক, তিনি কতই না উত্তম অভিভাবক আর কতই না উত্তম সাহায্যকারী!

সূরা হজ্জ: ৭৮

আন্দোলন সংক্রান্ত হাদীস

হাদীস নম্বর: ৮০০

وَرُوِيَ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : الشُّهَدَاءُ ثَلَاثَةَ رَجُلٌ خَرَجَ بنَفْسِهِ وَمَالِهِ فِي سَبِيلِ اللَّهِ لَا يُرِيدُ أَنْ يُقَاتِلُ، وَلَا يُقْتَلُ. يُكَثَرُ سَوَادَ الْمُسْلِمِينَ، فَإِنْ مَاتَ أَوْ قُتِلَ غُفِرَتْ لَهُ ذُنُوبُهُ كُلُّها. وَأَخَرَ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ، وَيُؤْعَنُ مِنَ الْفَرْعِ وَيُروعُ مِنَ الْمُوْرِ الْعِينِ، وَكَلَّتْ عَلَيْهِ حُلَةُ الْكَرَاكَ ويُوضع على واسم تاج الْوَفَّارِ وَالْخُلْدِ، وَالثَّانِي خَرَجَ بِنَفْسِهِ وَمَالِهِ مُحْتَسِنَا يُولِدُ أن يُقتل ولا يُقتل فإن مات أو قبلَ كَانَتْ وكَبَتُهُ مَعَ انواهِيمَ خَلِيلِ الرَّحْمَنِ عَلَيْهِ السلامُ - بين يدي الله تَبَارَكَ وَتَعَالَى فِي مَقْعَدِ صِدْقٍ عِنْدَ عَلِيْهِ مُقْتَدِرٍ، وَالثَّالِثُ خرَجَ بِنَفْسِهِ وَمَالِهِ مُحْتَسِبًا يُرِيدُ أَنْ يَقْتَلَ وَيُقْتَلُ، فَإِنَّ مات أَوْ قُتِلَ جَاءَ يَوْمَ الْقِيَامَة هَرا سَبَقَةٌ وَاضِعَهُ عَلَى عَانِهِم . وَالنَّاسُ جَا ثُوْنَ عَلَى الرُّكَّبِ، يَقُولُ أَلَا أَفْسَحُوا لَنَا فَإِنَّا قَدْ بدلنا دِمَاء نَا وَأَمْوَالَنَا لِلهِ تَبَارَكَ وَتَعَالَى ، قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِمٍ لَوْ قَالَ ذَلِكَ لا براهِيمَ خَلِيلِ الرَّحْمَنِ عَلَيْهِ السَّلَامُ أَوْ لِنَّبِيِّ مِنَ الْأَنْبِيَاءِ لزحلَ لَهُمْ عَنِ الطَّرِيقِ ، لما يولى مِنْ وَاجِبِ حَقِّهِمْ حَتَّى يَأْتُوا منَارِيرَ مِنْ نُورٍ تَحْتَ الْعَرْشِ، فَيَجْلِسُوا عَلَيْهَا يَنظُرُوْنَ كَيْفَ يقضى بَيْنَ النَّاسِ لا يَجِدُونَ عمَّ الْمَوْتِ، وَلَا يَفْتَقُوْنَ فِي الْبَرْزَعِ، وَلَا تُفْزِعُهُمُ الصُّبَحَةُ، وَلَا يَهْتُهُمُ الْحِسَابُ، وَلَا الْمِيزَانُ، وَلَا الصِّرَاطَ ، يَنْظُرُونَ كَيْفَ يُقْضَى بَيْنَ النَّاسِ، وَلَا يَسْأَلُوْنَ شَيْئًا إِلَّا أَعْطُوا وَلَا يَشْفَعُونَ فِي شَيْ إِلَّا شَقِمُوا فِيْهِ، وَيُعْطَوْنَ مِنَ الْجَنَّةِ مَا أَحَبُّوا، وَيَتَبَوَّ نُوْنَ مِنَ الْجَنَّةِ حَيْثُ أَحَبُّوا رَوَاهُ الْبَزَّارُ، وَالْمُبْهَنِي وَالْإِسْتَهَابِنُ وَهُوَ حَدِيثٌ غَرِيبٌ

অনুবাদ: হযরত আনাস ইবনে মালেক (রা) থেকে বর্ণিত। রসূল (সা) বলেছেনঃ শহীদরা তিন রকমের।

১. প্রথমত, যে ব্যক্তি নিজের জান ও মাল উৎসর্গ করে আল্লাহর পথে বের হয়, কিন্তু সে লড়াই করতেও চায় না, নিহত হতেও চায় না। সে চায় মুসলমানদের সংখ্যা বাড়াতে। এই পথে চেষ্টা-সাধনা করতে গিয়ে যদি সে মারা যায় বা নিহত হয়, তবে তার সমস্ত গুনাহ মাফ করা হবে, তাকে কবর আযাব থেকে রেহাই দেয়া হবে। কিয়ামতের সময়কার মহা আতংক থেকে তাকে নিরাপদ রাখা হবে, জান্নাতের অনুপম সুন্দরী হুর সাথে তার বিয়ে দেয়া হবে। তাকে পরম সম্মানের পোশাক পরানো হবে, তার মাথায় সম্মানজনক ও অনন্তকাল স্থায়ী মুকুট পরানো হবে।

২. আর দ্বিতীয় শ্রেণীর হলো এমন লোক, যে জান ও মাল নিয়ে একনিষ্ঠভাবে বের হয়। হত্যা করতে চায়, কিন্ত নিহত হতে চায় না। সে যদি মারা যায় বা নিহত হয় তবে সে আল্লাহ তায়ালার সামনে হযরত ইবরাহীমের সাথে পাশাপাশি আসনে বসবে।

৩. তৃতীয় যে ব্যক্তি নিজের জান ও মাল সহ আন্তরিকতা সহকারে আল্লাহর পথো বের হয়, সে হত্যাও করতে চায়, নিহত হতেও তার আপত্তি নেই। সে যদি মারা যায় অথবা নিহত হয় তবে সে কিয়ামতের দিন নিজের তরবারী ঘাড়ে ঝুলিয়ে সবাইকে দেখাতে দেখাতে আসবে। লোকেরা ভীড় জমিয়ে থাকবে। সে বলবেঃ আমাদের জন্য জায়গা করে দাও। আমরা আল্লাহর উদ্দেশ্যে রক্ত ও অর্থব্যয় করে এসেছি।

রসূল (সা) বলেন: আল্লাহর কসম, তারা যদি হযরত ইবরাহীমকে বা অন্য কোন নবীকেও এ কথা বলতো, তবে তিনি পথ ছেড়ে দিতেন। কেননা তাদের কত গুরুত্ব ও অধিকার, তা তিনি দেখবেন। অবশেষে তারা আরশের নীচে কিছুসংখ্যক আলোর মিম্বরে বসবে। সেখানে বসে তারা কিভাবে বিচারকার্য সমাধা করা হয় তা দেখবে তারা মৃত্যুর কষ্ট অনুভব করবে না, কবরে কোন আযাব ভোগ করবে না। চিৎকার ধ্বনি শুনে তারা পেরেশান হবে না। হিসেব-নিকাশের জন্য তারা কোন দুশ্চিন্তা ভুগবে না। দাঁড়িপাল্লা এবং পুলসিরাত নিয়েও তারা ভাবনায় পড়বে না তার বিচারকার্য প্রত্যক্ষ করবে। তারা যা কিছুই চাইবে তা পাবে; যার জন্যই সুপারি করতে চাইবে, করতে পারবে। জান্নাতে তারা যা পছন্দ করবে তাই পাবে এক বেহেশতে যেখানেই তারা থাকতে চাইবে থাকতে পারবে।

(বাযযার, বাইহাকী, ইসপাহানী - আত তারগীব ওয়া তারহীব, ২য় খন্ড, ৮০০ নং হাদীস)

Top

সিয়াম সংক্রান্ত মাসআলা-মাসায়েল GO

Top

"সর্বস্বত সংরক্ষিত© ২০২৩ এস এম হোমিওপ্যাথি মেডিকেল সেন্টার; ব্লগঃ ডিজাইনে SIAAM