logo

HOMOEOPATHY DOCTOR

📚 Home

অগ্রসর কর্মী মানয়োন্নয়ন গাইড

ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদের জন্য দরস, বই নোট, বিষয়ভিত্তিক আয়াত-হাদিস ও মাসয়ালা সংকলন

অনুশীলনী- ০৭ঃ এপ্রিল- ২য় সপ্তাহঃ
# দারস তৈরী - সূরা তওবা (১১১ ও ১১২ নং আয়াত) # বই নোট: ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদের পারস্পারিক সম্পর্ক # আন্দোলন সংক্রান্ত আয়াত সূরা নিসা-৭৪ ও ৭৬, তওবা-২৪ ও ৩৮-৪১, আস-সাফ-৯,১০,১১,১২, আশ-শুরা-১৩, হজ্জ-৭৮ # আন্দোলন সংক্রান্ত হাদিস # যাকাত সংক্রান্ত মাসয়ালা

দারস তৈরী -সূরা সূরা তওবা (১১১ ও ১১২ নং আয়াত)

অনুশীলনী- ০৭: এপ্রিল- ২য় সপ্তাহ

দারস তৈরী - সূরা তওবা (১১১ ও ১১২ নং আয়াত)

বিষয়: ইসলামী আন্দোলন তথা, বায়আতের গুরুত্ব

إِنَّ اللَّهَ اشْتَرَىٰ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ أَنفُسَهُمْ وَأَمْوَالَهُم بِأَنَّ لَهُمُ الْجَنَّةَ ۚ يُقَاتِلُونَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَيَقْتُلُونَ وَيُقْتَلُونَ ۖ وَعْدًا عَلَيْهِ حَقًّا فِي التَّوْرَاةِ وَالْإِنجِيلِ وَالْقُرْآنِ ۚ وَمَنْ أَوْفَىٰ بِعَهْدِهِ مِنَ اللَّهِ ۚ فَاسْتَبْشِرُوا بِبَيْعِكُمُ الَّذِي بَايَعْتُم بِهِ ۚ وَذَٰلِكَ هُوَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ

التَّائِبُونَ الْعَابِدُونَ الْحَامِدُونَ السَّائِحُونَ الرَّاكِعُونَ السَّاجِدُونَ الْآمِرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَالنَّاهُونَ عَنِ الْمُنكَرِ وَالْحَافِظُونَ لِحُدُودِ اللَّهِ ۗ وَبَشِّرِ الْمُؤْمِنِينَ

আয়াতের অনুবাদ:

(১১১) প্রকৃত ব্যাপার এই যে, আল্লাহ মুমিনদের থেকে তাদের জান ও মাল জান্নাতের বিনিময়ে কিনে নিয়েছেন। তারা আল্লাহর পথে লড়াই করে এবং মারে ও মরে। তাদের প্রতি তাওরাত, ইন্জিল ও কুরআনে (জান্নাতের ওয়াদা) আল্লাহর জিম্মায় একটি পাকাপোক্ত ওয়াদা বিশেষ। আর আল্লাহর চাইতে বেশী ওয়াদা পূরণকারী কে আছে? কাজেই তোমরা আল্লাহর সাথে যে কেনা বেচা করেছো সে জন্য আনন্দ করো। এটিই সবচেয়ে বড় সাফল্য।

(১১২) তারা আল্লাহর দিকে বার বার প্রত্যাগমনকারী, তার ইবাদত কারী, তার প্রশংসা বাণী উচ্চারণকারী, তার সামনে রুকু কারী ও সেজদা কারী, সৎ কাজের আদেশ কারী, অসৎ কাজ থেকে বিরতকারী এবং আল্লাহর সীমা সংরক্ষনকারী (সেই সব মুমিন হয়ে থাকে যারা আল্লাহর সাথে কেনা বেচার সওদা করে)। আর হে নবী! এ মুমিনদেরকে সুখবর দাও!

সূরা আত্ তাওবার নামকরণ:

এ সূরাটি দু’টি নামে পরিচিত: আত্ তাওবাহআল বারাআত

তাওবা নামকরণের কারণ: এ সূরার ১১৮ নং আয়াতে কতিপয় ঈমানদারের গোনাহ মাফ করে তাওবা কবুল করার কথা বলা হয়েছে। আর এর শুরুতে মুশরিকদের সাথে সম্পর্কচ্ছেদের কথা ঘোষনা করা হয়েছে বলে একে বারায়াত (অর্থাৎ সম্পর্কচ্ছেদ) নামে অভিহিত করা হয়েছে।

সূরার শুরুতে বিসমিল্লাহ না লেখার কারণ:

  1. এটা যখন সংকলন করা হয় তখন সাহাবীদের মধ্যে মতানৈক্য দেখা দেয়- কেহ কেহ বলেন এই সূরা আনফালের অংশ অথবা কেহ কেহ বলেন- আলাদা সূরা।
  2. বিসমিল্লাহ্ হলো রহমত কামনা ও নিরাপত্তার জন্য, আর এ সূরার মধ্যে কাফের মুশরিকদের সাথে সম্পর্কচ্ছেদ করা হয়েছে, তাই বিসমিল্লাহ্ লেখা হয়নি।
  3. ইমাম কায়েশী বলেন- জিব্রাঈল (আ.) এই সূরা নাযিলের সময় বিসমিল্লাহ নিয়ে আসেন নাই তাই।
  4. ইমাম রাযী বলেন- নবী করিম সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম নিজেই এর শুরুতে বিসমিল্লাহ লেখেন নি, কাজেই সাহাবা কেরাম ও লেখেন নি এবং পরবর্তী লোকেরা ও এ রীতি অনুসরণ অব্যাহত রেখেছেন। পবিত্র কুরআন যে নবী থেকে হুবুহু ও সামান্যতম পরিবর্তন-পরিবর্ধন ছাড়াই গ্রহন করা হয়েছিল এবং যে ভাবে তিনি দিয়েছিলেন ঠিক সেভাবেই তাকে সংরক্ষন করার জন্য যে সর্বোচ্ছ সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে এটি তার একটি প্রমাণ।

সূরা আত্ তাওবা নাযিলের সময়কাল:

এ সূরা ৩টি ভাষনে নাযিল হয়—

  • প্রথম ভাষণ: ২য় হতে ৫ম রুকুর শেষ পযর্ন্ত। এ অংশ ৯ম হিজরীর যিলক্বদ মাসে নাযিল হয়।
  • ২য় ভাষণ: ৬ষ্ঠ রুকু থেকে ৯ম রুকুর শেষ পযর্ন্ত, ৯ম হিজরীর রজব মাসে নাযিল হয়।
  • তৃতীয় ভাষণ: ১০ম রুকু থেকে সূরার শেষ পযর্ন্ত তাবুক যুদ্ধ হতে প্রত্যাবর্তন কালে অবতীর্ণ হয়।

সূরা আত্ তাওবার বিষয়বস্তু:

  • বিধর্মীদের সাথে সম্পর্কচ্ছেদের কথা বলা হয়েছে (২য় রুকু)।
  • তাবুক যুদ্ধের অভিযান (৬ষ্ঠ-১০ম রুকু)।
  • মুনাফিকদের পরিণাম ও পরলৌকিক শাস্তি। (৪২-৪৩, ৪৭-৫৯, ৬১-৬৮, ৭৪-৯০, ৯৩-৯৮, ১০১, ১০৭-১১০, ১২৪ ও ১২৭ আয়াত)
  • মসজিদে জেরার নির্মাণের পরিণাম ও উহা ধ্বংস করার নির্দেশ (১০৮ নং আয়াত)।
  • শহীদের মর্যাদা, মাহাত্ম সৎপথে অর্থ ব্যয় এর পরিণাম (১৪তম রুকু)।

আলোচ্য আয়াতগুলোর শানে নুযুল:

অধিকাংশ মুফাস্সিরের মতে এ আয়াতগুলো নাযিল হয়েছে ‘বায়আতে আকাবায়’ অংশগ্রহনকারী লোকদের ব্যাপারে। এ বায়’আত নেয়া হয়েছিল মক্কায় মদীনার আনসারদের থেকে। তাই এই সূরাটি মাদানী হওয়া সত্ত্বে ও এ আয়াতগুলোকে মাক্কী বলা হয়েছে।

আকাবা: “এখানে আকাবা বলতে বোঝায় মিনার জমরায়ে আকাবার সাথে মিলিত পর্বতাংশকে”। এখানে মদীনা থেকে আগত আনসারগণের তিন দফায় বায়আত নেয়া হয়।

  • ১ম দফা: নবুয়তের একাদশ বছরে, তখন মোট ৬ জন লোক ইসলাম গ্রহন করে মদীনায় ফিরে যায়। এতে মদীনার ঘরে ঘরে ইসলাম ও নবী করীম ﷺ -এর চর্চা শুরু হয়।
  • ২য় দফা: পরবর্তী বছর হজ্জ্বের মৌসুমে পূর্বের ৫ জন সহ মোট ১২ জন নবী করিম ﷺ এর হাতে বায়আত গ্রহন করে। আর এভাবে মদীনায় মুসলমানের সংখ্যা বাড়তে থাকে (৪০ জনের ও বেশী)। ফলে তাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে নবী করিম ﷺ হযরত মোসআব বিন উমাইর (রা:) কে কোরআন তালিমের জন্য প্রেরণ করেন।
  • ৩য় দফা: নবুয়তের ত্রয়োদশ বছর ৭০ জন পুরুষ ও ২ জন মহিলা সহ ৩য় ও সর্বশেষ বায়আত এ আকাবায় অনুষ্ঠিত হয়। সাধারণত একেই বায়’আতে আকাবা বলা হয়।

আয়াতের ব্যাখ্যা:

১১১ নং আয়াত-

  • ১১১ নং আয়াতটি-ই জিহাদ সংক্রান্ত ২য় আয়াত। কারন মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম মক্কায় অবস্থান কালে এ পযর্ন্ত জিহাদ সংক্রান্ত কোন হুকুম নাযিল হয়নি।
  • জিহাদ অর্থ: প্রচেষ্টা চালানো।
  • জিহাদের স্তর (৫ টি):
    1. দাওয়াত ইলাল্লাহ।
    2. শাহাদাৎ আলান্ নাস।
    3. কিতাল ফি-সাবিলিল্লাহ।
    4. আমল বিল মা’রুফ নাহি আনিল মুনকার।
    5. ইক্বামতে দ্বীন।

যেমন- আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন—

تُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ وَتُجَاهِدُونَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ بِأَمْوَالِكُمْ وَأَنفُسِكُمْ ۚ ذَٰلِكُمْ خَيْرٌ لَّكُمْ إِن كُنتُمْ تَعْلَمُونَ

“তোমরা আল্লাহ ও রাসুল এর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করবে এবং আল্লাহর পথে নিজেদের ধন-সম্পদ ও জীবন বাজি রেখে জিহাদ করবে। এটাই তোমাদের জন্য উত্তম; যদি তোমরা বুঝতে পার”। (আস্ সফ: ১১)

জিহাদের সফলতা:

আখেরাতের সফলতা: আল্লাহ বলেন—

فَلْيُقَاتِلْ فِي سَبِيلِ اللَّهِ الَّذِينَ يَشْرُونَ الْحَيَاةَ الدُّنْيَا بِالْآخِرَةِ ۚ وَمَن يُقَاتِلْ فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَيُقْتَلْ أَوْ يَغْلِبْ فَسَوْفَ نُؤْتِيهِ أَجْرًا عَظِيمًا

“(এ সব লোকদের জেনে রাখা উচিত যে) আল্লাহর পথে লড়াই করা সে সব লোকদেরই কর্তব্য, যারা পরকালের বিনিময়ে দুনিয়ার জীবন বিক্রি করে দেয়। যারা আল্লাহর পথে লড়াই করবে ও নিহত হবে কিংবা বিজয়ী হবে, অচিরেই তাকে আমি বিরাট পুরষ্কার দান করব”। (সূরা আন নিসা: ৭৪)

يَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَيُدْخِلْكُمْ جَنَّاتٍ تَجْرِي مِن تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ وَمَسَاكِنَ طَيِّبَةً فِي جَنَّاتِ عَدْنٍ ۚ ذَٰلِكَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ

“আল্লাহ তোমাদের সব গুণাহ মাফ করে দিবেন এবং তোমাদের এমন বাগানে প্রবেশ করাবেন যার নীচ দিয়ে ঝর্ণাধারা বয়ে চলবে। আর চিরস্থায়ী বসবাসের জায়গা জান্নাতের মধ্যে তোমাদেরকে সর্বোত্তম ঘর দান করবেন। এটাই বড় সফলতা”। (আছ্ ছফ: ১২)

তাদেরকে এমন জান্নাতে প্রবেশ করা হবে যার নেয়ামত সমূহ অশেষ ও চিরন্তন।

وَأُخْرَىٰ تُحِبُّونَهَا ۖ نَصْرٌ مِّنَ اللَّهِ وَفَتْحٌ قَرِيبٌ ۗ وَبَشِّرِ الْمُؤْمِنِينَ

এবং আরো একটি (অর্জন) যা তোমরা খুব পছন্দ কর। (অর্থাৎ) আল্লাহর পক্ষ থেকে সাহায্য ও নিকটবর্তী বিজয়। আর মুমিনদেরকে তুমি সুসংবাদ দাও। (আছ্ ছফ: ১৩)

শহীদের মর্যাদা:

  • প্রথম রক্তপাতেই তার সমস্ত গুনাহ মাফ করে দেয়া হবে।
  • জান্নাতে তার স্থান তাকে দেখানো হবে (কবরে)।
  • কবরের আযাব থেকে তাকে রক্ষা করা হবে।
  • ‘কবরে’ বড় বিপদ আপদ থেকে নিরাপদ থাকবে।
  • হাশরের ময়দানে তার মাথায় একটা আকর্ষনীয় মূকুট পড়ানো হবে।
  • তাকে তার ৭০ জন আত্মীয়ের শাফায়াতের অনুমতি দেয়া হবে।

বাইয়াত:

আভিধানিক অর্থ: ক্রয়-বিক্রয়, লেন-দেন, চুক্তি, আনুগত্যের শপথ, অঙ্গীকার, নেতৃত্ব মেনে নেয়া। একে ইংরেজীতে বলা হয়- To sell, To buy, To make a contract, Agreement, Arrangement, Business deal.

পরিভাষায়: “আল্লাহর সন্তুষ্টি অজর্নের লক্ষ্যে নিজের জান ও মালকে ইসলামী সংগঠনের দায়িত্বশীলের নিকট আনুগত্যের শপথের মাধ্যমে আল্লাহর পথে সপে দেয়ার ওয়াদা বা প্রতিশ্রুতির নাম বাইয়াত”।

إِنَّ الَّذِينَ يُبَايِعُونَكَ إِنَّمَا يُبَايِعُونَ اللَّهَ يَدُ اللَّهِ فَوْقَ أَيْدِيهِمْ ۚ فَمَن نَّكَثَ فَإِنَّمَا يَنكُثُ عَلَىٰ نَفْسِهِ ۖ وَمَنْ أَوْفَىٰ بِمَا عَاهَدَ عَلَيْهُ اللَّهَ فَسَيُؤْتِيهِ أَجْرًا عَظِيمًا

নিশ্চয় যারা আপনার কাছে বাই’আত করে তারা তো আল্লাহরই হাতে বাই’আত করে। আল্লাহর হাত তাদের হাতের উপর। তারপর যে তা ভঙ্গ করে, তা ভঙ্গ করার পরিণাম বর্তবে তারই উপর এবং যে আল্লাহর সাথে কৃত অঙ্গীকার পূর্ণ করে, তবে তিনি অবশ্যই তাকে মহাপুরস্কার দেন। (ফাতহ: ১০)

لَّقَدْ رَضِيَ اللَّهُ عَنِ الْمُؤْمِنِينَ إِذْ يُبَايِعُونَكَ تَحْتَ الشَّجَرَةِ فَعَلِمَ مَا فِي قُلُوبِهِمْ فَأَنزَلَ السَّكِينَةَ عَلَيْهِمْ وَأَثَابَهُمْ فَتْحًا قَرِيبًا

মু’মিনদের প্রতি আল্লাহ সন্তুষ্ট হলেন যখন তারা (হুদাইবিয়ায়) গাছের তলে তোমার কাছে বায়‘আত নিল। আল্লাহ জানতেন তাদের অন্তরে কী আছে, এজন্য তিনি তাদের উপর প্রশান্তি অবতীর্ণ করলেন আর পুরস্কার হিসেবে তাদেরকে দিলেন নিকট আসন্ন বিজয়। (ফাতহ: ১৮)

বাইয়াতের ব্যাপক অর্থ:

  • আল্লাহর সাথে জান মালের চুক্তি:

    فَإِن تَابُوا وَأَقَامُوا الصَّلَاةَ وَآتَوُا الزَّكَاةَ فَإِخْوَانُكُمْ فِي الدِّينِ ۗ وَنُفَصِّلُ الْآيَاتِ لِقَوْمٍ يَعْلَمُونَ

    অতঃপর তারা যদি তওবা করে, যথাযথ নামায পড়ে ও যাকাত দেয়, তাহলে তারা তোমাদের দ্বীনী ভাই। আর জ্ঞানী সম্প্রদায়ের জন্য আমি নিদর্শনসমূহ স্পষ্টরূপে বিবৃত করি। (আত্ তাওবা: ১১)

  • আল্লাহর আনুগত্য প্রকাশে শপথ: সকল ধরনের হারাম বা নিষেধকৃত কাজ থেকে নিজেকে দূরে রাখার চুক্তি।

    يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ إِذَا جَاءَكَ الْمُؤْمِنَاتُ يُبَايِعْنَكَ عَلَىٰ أَن لَّا يُشْرِكْنَ بِاللَّهِ شَيْئًا وَلَا يَسْرِقْنَ وَلَا يَزْنِينَ وَلَا يَقْتُلْنَ أَوْلَادَهُنَّ وَلَا يَأْتِينَ بِبُهْتَانٍ يَفْتَرِينَهُ بَيْنَ أَيْدِيهِنَّ وَأَرْجُلِهِنَّ وَلَا يَعْصِينَكَ فِي مَعْرُوفٍ ۙ فَبَايِعْهُنَّ وَاسْتَغْفِرْ لَهُنَّ اللَّهَ ۖ إِنَّ اللَّهَ غَفُورٌ رَّحِيمٌ

    হে নবী! মুমিন নারীগণ যখন আপনার কাছে এসে বাই’আত করে এ মর্মে প্রতশ্রিুতি দেয় যে, তারা আল্লাহর সাথে কোন শরীক স্থির করবে না, চুরি করবে না, ব্যভিচার করবে না, নিজেদের সন্তানদেরকে হত্যা করবে না, তারা সজ্ঞানে কোন অপবাদ রচনা করে রটাবে না এবং সৎকাজে আপনাকে অমান্য করবে না, তখন আপনি তাদের বাই’আত গ্রহণ করুন এবং তাদের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করুন। নিশ্চয় আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। (মুমতাহিনা: ১২)

বাইয়াতের গুরুত্ব:

সংশ্লিষ্টতা: ১. নফ্স বা প্রবৃত্তি। ২. ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি। ৩. ইবলিশ।

عَنْ أَبِي ذَرٍّ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ فَارَقَ الْجَمَاعَةَ قَيْدَ شِبْرٍ فَقَدْ خَلَعَ رِبْقَةَ الإِسْلامِ مِنْ عُنُقِهِ

আবূ যার (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ’’যে ব্যক্তি জামাআত থেকে আধ হাত পরিমাণ বিচ্ছিন্ন হয়ে (সরে) গেল, সে আসলে তার ঘাড় থেকে ইসলামের গল রশিকে খুলে ফেলল।’’ (অর্থাৎ, ইসলাম থেকে খারিজ হয়ে গেল।) (আস্-সুন্নাহ, ইবনে আবী আসেম ৮৯২, ১০৫৩, আলবানী হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন)

বাইয়াতের ফজিলত:

আল্লাহর সাথে কৃত ওয়াদা বাস্তবায়ন এবং দুনিয়ার জীবনের চেয়ে পরকালের জীবনকে প্রাধান্য দেয়ার জন্য।

فَلْيُقَاتِلْ فِي سَبِيلِ اللَّهِ الَّذِينَ يَشْرُونَ الْحَيَاةَ الدُّنْيَا بِالْآخِرَةِ ۚ وَمَن يُقَاتِلْ فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَيُقْتَلْ أَوْ يَغْلِبْ فَسَوْفَ نُؤْتِيهِ أَجْرًا عَظِيمًا

সুতরাং যারা আখিরাতের বিনিময়ে দুনিয়ার জীবন বিক্রয় করে তারা যেন আল্লাহর রাস্তায় লড়াই করে। আর যে আল্লাহর রাস্তায় লড়াই করবে অতঃপর সে নিহত হোক কিংবা বিজয়ী, অচিরেই আমি তাকে দেব মহা পুরস্কার। (সূরা নিসা: ৭৪)

আল্লাহর মাগফিরাত:

وَسَارِعُوا إِلَىٰ مَغْفِرَةٍ مِّن رَّبِّكُمْ وَجَنَّةٍ عَرْضُهَا السَّمَاوَاتُ وَالْأَرْضُ أُعِدَّتْ لِلْمُتَّقِينَ

আর তোমরা দ্রুত অগ্রসর হও তোমাদের রবের পক্ষ থেকে মাগফিরাত ও জান্নাতের দিকে, যার পরিধি আসমানসমূহ ও যমীনের সমান, যা মুত্তাকীদের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। (আল ইমরান: ১৩৩)

سَابِقُوا إِلَىٰ مَغْفِرَةٍ مِّن رَّبِّكُمْ وَجَنَّةٍ عَرْضُهَا كَعَرْضِ السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ أُعِدَّتْ لِلَّذِينَ آمَنُوا بِاللَّهِ وَرُسُلِهِ ۚ ذَٰلِكَ فَضْلُ اللَّهِ يُؤْتِيهِ مَن يَشَاءُ ۚ وَاللَّهُ ذُو الْفَضْلِ الْعَظِيمِ

তোমরা অগ্রণী হও তোমাদের প্রতিপালকের ক্ষমা ও সেই জান্নাতের দিকে, যার প্রশস্ততা আকাশ ও পৃথিবীর প্রশস্ততার মত, যা প্রস্তুত করা হয়েছে আল্লাহ ও তাঁর রসূলগণে বিশ্বাসীদের জন্য। এটা আল্লাহর অনুগ্রহ, যাকে ইচ্ছা তিনি তাকে তা দান করেন। আর আল্লাহ মহা অনুগ্রহশীল। (হাদীদ: ২১)

সর্বোচ্চ ঈমানের অধিকারী হওয়া:

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنتُم مُّسْلِمُونَ

হে মু’মিনগণ! আল্লাহকে ভয় কর যেমনভাবে তাঁকে ভয় করা উচিত। তোমরা মুসলিম না হয়ে কক্ষনো মরো না। (আল ইমরান: ১০২)

পরকালীন নিশ্চিত সফলতার গ্যারান্টি:

قَدْ أَفْلَحَ مَن تزَكَّىٰ

নিশ্চয় সে সাফল্য লাভ করে, যে নিজেকে পরিশুদ্ধ করে। (সূরা আল আ’লা: ১৪)

قَدْ أَفْلَحَ مَن زَكَّاهَا

সে-ই সফলকাম হয়েছে, যে নিজেকে পবিত্র করেছে। (আস-শামস্: ৯)

জাহান্নামের আগুন থেকে বাচার জন্য:

هُوَ الَّذِي أَرْسَلَ رَسُولَهُ بِالْهُدَىٰ وَدِينِ الْحَقِّ لِيُظْهِرَهُ عَلَى الدِّينِ كُلِّهِ وَلَوْ كَرِهَ الْمُشْرِكُونَ

তিনিই তাঁর রসূলকে হিদায়াত ও সত্য দীনসহ পাঠিয়েছেন তাকে সকল দীনের উপর বিজয়ী করার জন্য- যদিও মুশরিকরা (তা) অপছন্দ করে। (আস্ সফ: ৯)

বাইয়াত কার নিকট করতে হবে:

  • আল্লাহর নিকট।
  • রাসূল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম এর নিকট।
  • রাসূলের সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম এর অবর্তমানে ইসলামী সংগঠনের নিকট।

বাইয়াতের অবস্থা:

  • ৬ষ্ঠ হিজরীতে হুদায়বিয়া নামক স্থানে সাহাবীরা রাসূল ﷺ এর হাতে বাবলা গাছের নীচে হযরত ওসমান (রা:) হত্যার সংবাদে যে বাইয়াত গ্রহন করেন, তাকে বাইয়াতুল রিদওয়ান বলে।
  • রাসূল ﷺ এর ইন্তেকালের পরে খোলাফায়ে রাশেদীনের হাতে মুসলিম মিল্লাতের বাইয়াত গ্রহন মুসলিম জাতির জন্য বাস্তব দৃষ্টান্ত।

বাইয়াত পরিহার করার পরিণাম:

পরকালে পীড়াদায়ক শাস্তি:

وَلَا تَقْرَبُوا مَالَ الْيَتِيمِ إِلَّا بِالَّتِي هِيَ أَحْسَنُ حَتَّىٰ يَبْلُغَ أَشُدَّهُ ۚ وَأَوْفُوا بِالْعَهْدِ ۖ إِنَّ الْعَهْدَ كَانَ مَسْئُولًا

আর তোমরা ইয়াতীমের সম্পদের কাছে যেয়ো না সুন্দরতম পন্থা ছাড়া, যতক্ষণ না সে বয়সের পূর্ণতায় উপনীত হয়। আর অঙ্গীকার পূর্ণ কর, নিশ্চয় অঙ্গীকার সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। (বনী ইসরাঈল: ৩৪)

وَأَوْفُوا بِعَهْدِ اللَّهِ إِذَا عَاهَدتُّمْ وَلَا تَنقُضُوا الْأَيْمَانَ بَعْدَ تَوْكِيدِهَا وَقَدْ جَعَلْتُمُ اللَّهَ عَلَيْكُمْ كَفِيلًا ۚ إِنَّ اللَّهَ يَعْلَمُ مَا تَفْعَلُونَ

আর তোমরা যখন অঙ্গীকার কর তখন আল্লাহর অঙ্গীকার পূর্ণ কর। তোমরা পাকাপোক্ত অঙ্গীকার করার পর তা ভঙ্গ করো না এবং প্রকৃত পক্ষে তোমরা নিজদের জন্য আল্লাহকে জিম্মাদার বানিয়েছ। নিশ্চয় আল্লাহ জানেন, যা তোমরা কর। (আন্ নাহল: ৯১)

জাহেলিয়াতের মৃত্যু:

রাসূল ﷺ বলেছেন— “যে ব্যক্তি বাইয়াত ছাড়া মারা যাবে তার মৃত্যু হবে জাহিলিয়াতের মৃত্যু।” (মুসলিম)

حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُعَاذٍ الْعَنْبَرِيُّ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا عَاصِمٌ، - وَهُوَ ابْنُ مُحَمَّدِ بْنِ زَيْدٍ - عَنْ زَيْدِ بْنِ مُحَمَّدٍ، عَنْ نَافِعٍ، قَالَ جَاءَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ إِلَى عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُطِيعٍ حِينَ كَانَ مِنْ أَمْرِ الْحَرَّةِ مَا كَانَ زَمَنَ يَزِيدَ بْنِ مُعَاوِيَةَ فَقَالَ اطْرَحُوا لأَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ وِسَادَةً فَقَالَ إِنِّي لَمْ آتِكَ لأَجْلِسَ أَتَيْتُكَ لأُحَدِّثَكَ حَدِيثًا سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُهُ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ ‏ "‏ مَنْ خَلَعَ يَدًا مِنْ طَاعَةٍ لَقِيَ اللَّهَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ لاَ حُجَّةَ لَهُ وَمَنْ مَاتَ وَلَيْسَ فِي عُنُقِهِ بَيْعَةٌ مَاتَ مِيتَةً جَاهِلِيَّةً ‏"‏

উবায়দুল্লাহ ইবনু মু’আয আম্বারী (রহঃ) ... নাফি (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাঃ) আবদুল্লাহ ইবনু মুতী (রাঃ) এর নিকট এলেন যখন হাররা-র দুঃখময় ঘটনা ঘটেছিল। যুগটা ছিল ইয়াযিদ ইবনু মুআবিয়ার যুগ। তখন তিনি (ইবনু মুতী) বললেন, আবূ আবদুর রহমানের জন্য বিছানা পেতে দাও। তখন তিনি বললেন, আমি তোমার কাছে বসতে আসিনি, এসেছি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট যে হাদীস শুনেছি তা তোমাকে শুনাতে। আমি তাঁকে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি আমীরের আনুগত্য থেকে হাত গুটিয়ে নিয়ে মৃত্যুবরণ করে সে কিয়ামতের দিন দলিল বিহীন অবস্থায় আল্লাহর সাথে মিলিত হবে। আর যে ব্যক্তি এমন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করলো যে তার ঘাড়ে আনুগত্যের কোন শিকল নেই তার মৃত্যু জাহেলিয়াতের মৃত্যু হবে। (মুসলিম)

কিয়ামতের ময়দানে অপমানজনক চিহ্ন দ্বারা চিহ্নিত করবেন।

সূরা আত্ তাওবার ১১১ নং আয়াতে মৌলিকভাবে তিনটি কথা উল্লেখযোগ্য। সেগুলো হল—

  1. প্রথমত: আল্লাহর সাথে মুমিনদের ক্রয়-বিক্রয়ের চুক্তি।
  2. দ্বিতীয়ত: চুক্তি সম্পাদন করা মুমিনদের কাজ। আর সেটা হচ্ছে— জিহাদ ফি-সাবিলিল্লাহ। যার ধরন হলো মারবে ও মরবে। (সূরা তাওবা-৪১, আন নিসা-৭১ নং আয়াত)
  3. তৃতীয়ত: মুমিনগণ আল্লাহর সাথে যে বাইয়াত বা চুক্তি সম্পাদন করেছে তাদের জন্য সুসংবাদ এজন্যই যে, আল্লাহর এ জান্নাতের ওয়াদা সঠিক এবং যুক্তিযুক্ত। আর আল্লাহর চাইতে অধিক প্রতিশ্রুতি রক্ষাকারী কেউ নেই।

১১২ নং আয়াতের ব্যাখ্যা:

১১২ নং আয়াতে বাইয়াত গ্রহনকারী মুমিনদের ৮ টি গুনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এখানে ২য় সাতটি গুণের সংক্ষিপ্ত সার হলো ৮ম গুণ।

  • আত্ তা‘য়িবুনা: তাওবাকারীগণ। অর্থাৎ যারা অপরাধ করার পর অনুতপ্ত হয়ে কৃত অপরাধের ক্ষমা চেয়ে তা আর না করার ওয়াদা করে। (সূরা আল ইমরান: ৯০, ১৩৫; নিসা: ১৭, ১১০; আন আম: ৫৪; আরাফ: ১৫৩; মুমিন: ৩; আস্শুরা: ২৫; নাহল: ১১৯)
  • আল আবিদুনা: ইবাদতকারীগণ।
  • আল হামিদুনা: প্রশংসাকারীগণ, শুকরিয়াকারীগণ। অর্থাৎ যারা বিপদে-মুসিবতে, সুখে-দুখে, সবসময় আল্লাহর পশংসা করে। (সূরা নসর: ৩)
  • আছ্ ছা‘য়িহুনা: পরিভ্রমণকারীগণ। কারো কারো মতে রোজা পালনকারীগণ। এখানে ইসলামের জন্য, জিহাদের জন্য ও হালাল রুজির জন্য ভ্রমণ ও হতে পারে। ইসলাম পূর্ব যুগে খ্রীস্ট ধর্মে দেশ ভ্রমণকে ইবাদত মনে করা হতো। ইসলাম ধর্মে একে বৈরাগ্যবাদ বলে অভিহিত করে নিষিদ্ধ ঘোষনা করা হয়েছে এবং এর পরিবর্তে রোযা পালনকে এর স্থলাভিসিক্ত করা হয়েছে। কারন দেশ ভ্রমণের উদ্দেশ্য সংসার ত্যাগ। অথচ রোযা এমন এক এবাদত, যা পালন করতে গিয়ে যাবতীয় পার্থিব বাসনা ত্যাগ করতে হয় এর ভিত্তিতে কতিপয় বর্ণনাকারী জিহাদকেও দেশ ভ্রমণের অনুরূপ বলেন। রাসূল ﷺ বলেছেন— "আমার উম্মতের দেশ ভ্রমণ হলো জিহাদ ফি-সাবিলিল্লাহ।" (ইবনে মাজা ও বায়হাকী)
    হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা:) বলেন, কুরআন মাজীদে ব্যবহৃত ‘সা‘য়িহুন’ অর্থ রোযাদার। হযরত ইকরামা (রা:) এ শব্দের ব্যাখ্যায় বলেন যে, এরা হলো দ্বীনের শিক্ষার্থী, যারা এলম হাসিলের জন্য ঘর-বাড়ী ছেড়ে বের হয়ে পড়ে।
  • আর-রাকিয়ূনাস্ সাজিদুনা: রুকুকারী ও সিজদাকারীগণ। অর্থাৎ যারা নামাজ কায়েম করে। যেমন— সূরা হজ্জ: ৭৭, লোকমান: ১৭, আন কাবুত: ৪৫
  • আল আমীরুনা বিল মা‘রুফ: সৎ কাজের আদেশ দানকারী এবং ভালো কাজের নির্দেশক।
  • আন নাহুনা আনীল মুনকার: মন্দ ও খারাপ কাজের বাধাদানকারী।
  • আল হাফিজুনা লি-হুদুদিল্লাহ: আল্লাহর সীমা হিফাজতকারী, সংরক্ষণকারীগণ, আল্লাহর নিষেধ যথাযথভাবে পালনকারীগণ।

নোট: প্রথম সাতটি গুণের মধ্যে যে তাফসীর রয়েছে, তার সংক্ষিপ্ত সার কথা হলো এ যে— এরা নিজেদের প্রতিটি কর্ম ও কথায় আল্লাহর নির্ধারিত তথা শরীয়তের হুকুমের অনুগত ও হেফাজতকারী।

শিক্ষনীয় দিক:

  1. আল্লাহ তায়ালা মুমিনদের জান ও মাল জান্নাতের বিনিময়ে কিনে নিয়েছেন।
  2. আল্লাহর পথে জিহাদ করতে হবে, মরলে শহীদ বাচলে গাজী।
  3. জিহাদের বিনিময়ে জান্নাত এটা আল্লাহর পাকাপোক্ত ওয়াদা।
  4. আল্লাহর পথে জিহাদ করলে দুনিয়া ও আখিরাত উভয় জায়গায় সফলতা লাভ করা যায়।
  5. মুমিনদের জীবনের একমাত্র কামনা হওয়া উচিত আল্লাহর পথে জিহাদ।
  6. মুমিনের যে গুণগুলোর কথা বলা হয়েছে এগুলো পুরোপুরি নিজের জীবনে বাস্তবায়ন করা।

বই: ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদের পারস্পরিক সম্পর্ক

লেখক: খুররম জাহ্ মুরাদ

লেখক পরিচিতি:

  • নাম: ইঞ্জিনিয়ার খুররম জাহ্ মুরাদ
  • পিতার নাম: মঞ্জুর আলী মুরাদ
  • মাতার নাম: বেগম আনতুল হাই
  • জন্ম: ১৯৩২ সালে ভারতের মধ্যপ্রদেশের রাজধানী ভুপালে।
  • শিক্ষা: NED ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ, করাচী থেকে গ্রাজুয়েশন এবং যুক্তরাষ্ট্রের ভিনেটা ইউনিভার্সিটি থেকে সিভিলে পোস্ট গ্রাজুয়েশন।
  • দায়িত্ব ও কর্মজীবন:
    • ইসলামী জমিয়তে তালাবা, পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সভাপতি ছিলেন।
    • ১৯৫৭ সালে ACE (Associate Council Engineer) এর MD হিসেবে পূর্ব পাকিস্তান (বাংলাদেশে) আসেন।
    • ১৯৬০-৭০ পর্যন্ত তিনি ঢাকা মহানগরী জামায়াতের আমীর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
    • ১৯৭০ সালে লন্ডনের দাওয়াতুল ইসলাম ট্রাস্টে যোগদান করেন।
    • কাবা শরীফের সম্প্রসারণ কাজে তিনি আত্মনিয়োগ করেন এবং তার নামে কাবা শরীফে ‘বাবে খুররম মুরাদ’ নামে একটি দরজা আছে।
    • ১৯৯৬ সালে মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত তিনি জামায়াতে ইসলামী পাকিস্তানের নায়েবে আমীরের দায়িত্ব পালন করেন।

প্রাথমিক কথা:

ঐতিহাসিকভাবে একথা সত্য যে, প্রাক ইসলামী যুগে মানুষে মানুষে কোন ভ্রাতৃত্বের বন্ধন ছিলনা। বিভিন্ন গোত্র, দল, খান্দানে বিভক্ত ছিল। ছিল পরস্পরের রক্ত পিপাসু ও জানমাল ইজ্জতের দুশমন। এমতবস্থায় শত্রুতা ভুলে সুসম্পর্ক ও ভ্রাতৃত্বের মহান শিক্ষা দিয়েছিলেন হযরত মুহাম্মদ ﷺ।

যার প্রভাবে সর্বকালের সবচেয়ে বিশৃঙ্খল জাতি সর্বশ্রেষ্ট জাতিতে রূপান্তরিত হতে পেরেছিল। প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছিল একটি আদর্শ রাষ্ট্র, আর তা সম্ভব হয়েছিল কেবলমাত্র পারস্পরিক ভ্রাতৃত্বের সুস্পষ্ট প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে। সুতরাং বলা যায় ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদের জন্য এমন একটি ঔষধ তথা পারস্পরিক সুসম্পর্ক ও ভ্রাতৃত্ববোধের জাগরণ অতীব প্রয়োজন।

মৌলিক আলোচনা:

প্রকৃত পক্ষে আলোচ্য বিষয় হচ্ছে তিনটি—

  1. প্রয়োজনীয় গুণাবলী
  2. ধ্বংস ও দুর্বলকারী উপাদান এবং তা থেকে বাঁচার উপায়
  3. যে সমস্ত গুণাবলী সম্পর্ককে মজবুত ও উন্নত করে

বইটির ৪টি ভাগ রয়েছে:

  1. পারস্পরিক সম্পর্কের ভিত্তি, তার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা
  2. চরিত্রের প্রয়োজনীয়তা ও তার মৌলিক বৈশিষ্ট্য
  3. সম্পর্ককে বিকৃতি থেকে রক্ষা করার উপায়
  4. সম্পর্ককে দৃঢ়তর করার পন্থা।

১. পারস্পরিক সম্পর্কের ভিত্তি তার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা

১.১. সম্পর্কের ভিত্তি ও মর্যাদা

(ক) সম্পর্কের প্রকৃতি

(খ) ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদের সম্পর্ক একটি আদর্শিক সম্পর্ক: এটা কোন হালকা বা ঠুনকো সম্পর্ক নয়। গভীর ও প্রগাঢ় ভালবাসা এবং স্থিতিশীলতার সমন্বয়ে রচিত।

১.২. ভ্রাতৃত্ব ঈমানের অপরিহার্য দাবি

(ক) পারস্পরিক সম্পর্কের উপর গোটা জীবন ওতপ্রোত ভাবে জড়িত এজন্য ঈমান মুমিনদেরকে সকল মানুষদের সাথে সাধারণ ভাবে এবং পরস্পরের সাথে বিশেষ ভাবে সম্পর্ক স্থাপনের নির্দেশ দেয়।

(খ) আর এ সম্পর্ককে আদল ও ইহসানের উপর প্রতিষ্ঠা করার জন্য একটি পূর্নাঙ্গ জীবন ব্যবস্থার দিক নির্দেশনা দেয়।

১.৩. বিশ্বব্যাপী ইসলামী বিপ্লবের জন্য ভ্রাতৃত্ব অপরিহার্য

(ক) ঈমানের লক্ষ্য হচ্ছে বিশ্বব্যাপী ইসলামী বিপ্লব সৃষ্টি।

(খ) বিপ্লবের জন্য একটি সুদৃঢ়, স্থিতিশীল ও ভ্রাতৃত্বসূলভ সম্পর্ক অপরিহার্য। এ সম্পর্কের প্রকৃতি হবে সীসা ঢালা প্রাচীরের ন্যায়।

১.৪. ভ্রাতৃত্বের দাবি তার গুরুত্ব ও ফলাফল

(ক) ভ্রাতৃত্বের দাবি হচ্ছে সৌহার্দ্যমূলক সম্পর্ক, বন্ধুত্ব, রহমত ও ভালবাসার সম্পর্ক।

(খ) ভ্রাতৃত্বের গুরুত্ব, রাসুলের বাণী— “তোমরা ততোক্ষণ পর্যন্ত মুমিন হবে না, যতোক্ষণ না পরস্পরকে ভালোবাসবে” (মুসলিম-আবু হুরায়রা)

(গ) ভ্রাতৃত্বের ফলাফল— ঈমান পূর্ণ হবে ও আখেরাতের সফলতা অর্জন হবে।

১.৫. আখিরাতে ভ্রাতৃত্বের সুফল

(ক) আল্লাহর উদ্দেশ্যে ভালবাসার সম্পর্ক স্থাপনকারীরা আরশের ছায়াতলে থাকবেন।

(খ) সম্পর্ক স্থাপনকারীদের জন্য নূরের মিম্বর তৈরি হবে।

১.৬. পারস্পরিক সম্পর্কের গুরুত্ব

(ক) কেবলমাত্র আল্লাহর জন্য এক ঈমানের ভিত্তিতে পারস্পরিক ভালবাসার সম্পর্ক স্থাপন ইসলামী আন্দোলনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

(খ) পারস্পরিক সম্পর্কের বিকৃতি গোটা দ্বীনকে নিশ্চিহ্ন করে দেয়।

২. চরিত্রের প্রয়োজনীয়তা ও তার মৌলিক বৈশিষ্ট্য

২.১. কল্যাণ কামনা
কল্যাণ কামনার প্রকৃতি মানদন্ড হচ্ছে যে, মানুষ নিজের জন্য যা পছন্দ করবে তার ভাইয়ের জন্য তাই পছন্দ করবে। তাই ইসলামী আন্দোলনের কর্মীগণ পরস্পরকে ভালবাসবে এবং কল্যাণ কামনা করবে যে রূপ সহোদর ভাইয়ের কল্যাণ কামনা করা হয়।
২.২. আত্মত্যাগ
একজন মুসলমান তার ভাইয়ের জন্য শুধু নিজের পছন্দই করেনা বরং নিজের উপর অগ্রাধিকার দেয়। ইসলামী আন্দোলনের কর্মীগণ নিজের প্রয়োজনকে মুলতবী রেখে অপরের প্রয়োজন মেটাবেন।
২.৩. আদল (সুবিচার)
ক) লোকদের অধিকারের ক্ষেত্রে সমতা ও ভারসাম্য বজায় রাখা।
খ) প্রত্যেকের অধিকার স্বাধীন ও নিরপেক্ষ ভাবে বুঝিয়ে দিতে হবে।
২.৪. ইহ্সান (সদাচরণ)
ক) ইহসান অর্থ হল সম্পর্কের সৌন্দর্য ও পূর্ণতা দান করা।
খ) সম্পর্কের ক্ষেত্রে আদল যদি অপ্রীতি ও তিক্ততা থেকে রক্ষা করে তবে ইহসান তাতে মাধুর্য ও সম্প্রীতি সৃষ্টি করে।
২.৫. রহমত
ক) রহমতের এ গুণই ব্যক্তিকে জনপ্রিয় করে তোলে এবং সাধারণ লোকদেরকে তার প্রতি আকৃষ্ট করে।
খ) রাসুলের বাণী— “যারা রহম করে, রহমান তাদের প্রতি রহম করেন। তোমরা দুনিয়াবাসীর প্রতি রহম করো, যেন আসমানবাসী তোমাদের রহম করেন।”
২.৬. মার্জনা
ইসলামী আন্দোলনের কর্মীগণ পরস্পর একে অন্যের দোষত্রুটি মার্জনা করবে। কারণ যারা দুনিয়ার জীবনে ক্ষমা করে দেবেন আল্লাহ তাদেরকে ক্ষমা করে দেবেন। তাদেরকে আল্লাহ তায়ালার ক্ষমা ও মার্জনার নীতি গ্রহণ করা উচিৎ।
২.৭. নির্ভরতা
মোমিনগন একে অন্যের উপর যেন নির্ভর করতে পারে। অর্থাৎ তার সমস্ত গোপন বিষয়াদির ব্যাপারেও পূর্ণ নিশ্চয়তার সাথে প্রকাশ করতে পারে অন্যের কাছে। আর এটাই হল ভ্রাতৃত্বের দাবি।
২.৮. মূল্যোপলব্ধি
মানুষ তার এ সম্পর্কের গুরুত্ব ও মর্যাদা সম্পর্কে এতটুকু অবহিত হবে, যাতে করে এর সঠিক মূল্যটা সে উপলব্ধি করতে পারে। আর এটা তখনি সম্ভব হবে যখন সে কোন ক্রমেই তার এ সম্পর্ক ছিন্ন করতে সম্মত হবেনা।

৩. সম্পর্ককে বিকৃতি থেকে রক্ষা করার উপায়

  1. অধিকারে হস্তক্ষেপ: একজন মুসলমানের কর্তব্য হচ্ছে তার ভাইয়ের অধিকারের মধ্যে কোন একটি অধিকার ও হরণ করার অপরাধ যাতে সে অপরাধ না হয় তার প্রতিকারের দিকে দৃষ্টি রাখা। রাসুল ﷺ বলেন, “যে ব্যক্তি কসম খেয়ে কোন মুসলমানের হক নষ্ট করেছে, আল্লাহ নিঃসন্দেহে তার প্রতি জাহান্নামকে অনিবার্য এবং জান্নাতকে হারাম করে দিয়েছেন।”
  2. দেহ ও প্রানের নিরাপত্তা: কোন মুসলিম ভাইয়ের দেহ প্রাণের নিরাপত্তার জন্য একজন অন্যের জন্য সর্বদা প্রস্তুত থাকবে। রাসুল ﷺ বলেন, “মুসলমানকে গালি দেয়া ফাসেকী আর তার সঙ্গে লড়াই করা হচ্ছে কুফরী।” (বুখারী, মুসলিম)
  3. কটুভাষা ও গালাগাল: কোন ভাইকে সাক্ষাতে গালাগাল করা তার সঙ্গে কটু ভাষায় কথা বলা এবং ঠাট্টা বিদ্রুপ করা সম্পূর্ণ নাজায়েজ। রাসুল ﷺ বলেন, “কোন কটুভাষি ও বদ স্বভাব বিশিষ্ট ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করবেনা।”
  4. গীবত: গীবত হচ্ছে মানুষ তার ভাইয়ের সামনে নয় বরং তার পেছনে বসে নিন্দা করা।
  5. চোগলখোরী: গীবতের একটি বিশেষ রূপ হল চোগলখোরী। রাসুল ﷺ বলেন, “চোগলখোর জান্নাতে যাবেনা।”
  6. শরমিন্দা করা: আপন ভাইকে তার সাক্ষাতে বা অন্য লোকের সামনে তার দোষত্রুটির জন্য লজ্জা দেওয়া এবং এভাবে অবমাননা করা শরমিন্দার অন্তর্ভুক্ত। রাসুল ﷺ বলেন, “যে ব্যক্তি তার ভাইকে তার গুনাহের জন্য লজ্জা দিল তার দ্বারা সেই গুনাহ কাজ না হওয়া পর্যন্ত সে মৃত্যুবরণ করবেনা।” রাসুল ﷺ আরো বলেন, “তাদেরকে কোন দোষ বা গুনাহের লক্ষ্য বানিয়ে শরমিন্দা ও অপমানিত করেনা।”
  7. ছিদ্রান্বেষণ: কোন ভাইয়ের দোষত্রুটি খুজে বেড়ানোই ছিদ্রান্বেষণ করা। রাসুল ﷺ বলেন, “মুসলমানদের দোষ খুঁজে বেড়িও না। কারণ, যে ব্যক্তি তার মুসলিম ভাইয়ের গোপন দোষ ও গুনাহ খুঁজতে থাকে, আল্লাহ তার গোপন দোষ ফাঁস করতে লেগে যান। আর আল্লাহ যার দোষ প্রকাশ করতে লেগে যান, তাকে তিনি অপমান করেই ছাড়েন-সে তার ঘরের মধ্যেই লুকিয়ে থাকুক না কেন।”
  8. উপহাস করা: ঠাট্টা বিদ্রুপের মাধ্যমে একে অন্যকে হেয় প্রতিপন্ন করা। আল্লাহ পবিত্র কুরআনে বলেন, “হে ঈমানদারগণ, কোন সম্প্রদায় অপর কোনো সম্প্রদায়কে ঠাট্টা করো না, সম্ভবতঃ সে তার চাইতে শ্রেষ্ঠ হবে। আর কোন নারী অপর কোন নারীকে ঠাট্টা করো না, সম্ভবত সে শ্রেষ্ঠ হবে তার চাইতে।” (সূরা হুজরাত: ১১)
  9. তুচ্ছ জ্ঞান করা: অপর ভাইকে তুচ্ছ জ্ঞান করা মারাত্মক গুনাহের কাজ। রাসুল ﷺ বলেন, “কোন মুসলমান অপর মুসলমানকে না অপমান করবে আর না তুচ্ছ জ্ঞান করবে।”
  10. নিকৃষ্ট অনুমান: প্রত্যক্ষ জ্ঞান ছাড়া কোন মুসলমান যদি তার ভাই সম্পর্কে অহেতুক সন্দেহ করে তবে তাহাই নিকৃষ্ট অনুমান। অনুমান করে কথা বলা গুনাহের কাজ। এ সম্পর্কে আল্লাহ পবিত্র কুরআনে বলেন, “হে ঈমানদারগন, বহু অনুমান থেকে তোমরা বেঁচে থাকো, নিঃসন্দেহে কোন-কোন অনুমান হচ্ছে গুনাহ।” (সূরা হুজরাত: ১২) রাসুল ﷺ বলেছেন, “তোমরা অনুমান পরিহার করো, কেননা অনুমান হচ্ছে নিকৃষ্টতম মিথ্যা কথা।” (বুখারী, মুসলিম)
  11. অপবাদ: গীবতের চেয়েও মারাত্মক অপরাধ হল অপরের কাছে এক ভাই সম্পর্কে মিথ্যা বলা যে দোষ এর মধ্যে সে নেই। এ সম্পর্কে আল্লাহ পবিত্র কুরআনে বলেন, “যারা মুসলমান পুরুষ ও মুসলমান নারীর প্রতি মিথ্যা অপবাদ চাপিয়ে কষ্ট দেয়, তারা আপন মাথায় ‘বুহ্তান’ ও স্পষ্ট গুনাহ চাপিয়ে নিলো।” (সূরা আহযাব: ৫৮)
  12. ক্ষতিসাধন: মুমিনদের লক্ষ্য রাখা অতিব প্রয়োজন যে, তার দ্বারা যেন অন্যের ক্ষতি সাধন না হয়। হাদিসে ক্ষতি সাধন কারীকে অভিশপ্ত বলা হয়েছে।
  13. মনোকষ্ট: মুসলমানদের অবশ্যই চলা-ফেরা, কথা-বার্তায় সতর্ক থাকতে হবে যে, তার দ্বারা যেন কেউ মনোকষ্ট না পায়। কারণ এর দ্বারা সম্পর্ক নষ্ট হয়।
  14. ধোঁকা দেওয়া: কথা বার্তা বা লেনদেনে আপন ভাইকে ধোঁকা দেয়া বা মিছে কথা বলা সম্পর্কে মুসলমানদেরকে অবশ্যই স্মরণ রাখতে হবে। রাসুল ﷺ বলেছেন, “সব চাইতে বড় খিয়ানত হচ্ছে এই যে, তুমি তোমার ভাইকে কোনো কথা বললে সে তোমাকে সত্যবাদী মনে করলো; অথচ তুমি তাকে মিথ্যা কথা বললে।” (তিরমিযী)
  15. হিংসা: হিংসা বা পরশ্রীকাতরতা এক ঘৃণ্য ব্যাধি। এই মারাত্মক ব্যাধির প্রভাবে লোকদের ঈমান বিপন্ন হয়ে পড়ে। হিংসার মূলে কতগুলো জিনিস থাকে। যেমন বিদ্বেষ, শত্রুতা, ব্যক্তিগত অহমিকা, অপরের সর্ম্পকে হীনমন্যতা অপরকে অনুগত করার প্রেরণা ইত্যাদি। রাসুল ﷺ বলেছেন, “তোমরা হিংসা থেকে বেঁচে থাক। কারন আগুন যেমন লাকড়িকে খেয়ে ফেলে, হিংসা ঠিক তেমনি নেকী ও পুণ্যকে খেয়ে ফেলে।”

৪. সম্পর্ককে দৃঢ়তর করার পন্থা

  1. মান ইজ্জতের নিরাপত্তা: এক মুসলমানের জন্য আরেক মুসলমানের মান ইজ্জতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। এটা সম্ভব হলে আন্তরিকতা গড়ে উঠে।
  2. দুঃখ কষ্টে অংশগ্রহণ: মুমিণগন হচ্ছে একটি দেহ। দেহের এক অংশে যদি আঘাত প্রাপ্ত হয়, তবে অন্য অংশও তেমন কষ্ট অনুভব করে। ঠিক তেমনি এক মুসলমান অপর মুসলমানের দুঃখ কষ্টে শরীক থাকবে।
  3. সমালোচনা ও নসীহত: নিজের একটি দোষ নিজের চোখে ধরা পড়ে না। তাই মুমিনগণ একে অপরকে গঠনমূলক সমালোচনা ও নছিহতের মাধ্যমে সংশোধন করতে হবে। কারণ হাদীসে বলা হয়েছে— এক মুসলমান অপর মুসলমানের আয়না স্বরূপ।
  4. মোলাকাত: একথা সত্য যে পরস্পর অধিক সাক্ষাতের ফলেই এক জন মানুষের সাথে আরেক জন মানুষের বন্ধন টিকে থাকে। সুতরাং মোলাকাতের গুরুত্ব অপরিসীম।
  5. রুগ্ন ভাইয়ের পরিচর্যা: কোন ব্যক্তি যদি রোগাক্রান্ত হয়ে পড়ে তবে তার সেবা শুশ্রূষার প্রয়োজন হয়। ফলে বন্ধুত্বের বন্ধন আরো দৃঢ় হয়। রাসুল ﷺ বলেন— “যখন সে রোগাক্রান্ত তাকে সেবা কর।”
  6. আবেগের বহিপ্রকাশ: কোন মানুষের মধ্যে কারো প্রতি প্রেম ভালবাসা থাকলে তা আবেগের মাধ্যমে বহিপ্রকাশ পাবে। এভাবে পারস্পরিক সম্পর্ক বৃদ্ধি পাবে।
  7. প্রীতি ও খোশ-মেজাজের সাথে মুলাকাত: পরিচ্ছন্ন মন দিয়ে সাক্ষাতে কথা বলার সময় মিষ্টি কথা বলার এবং ঠাট্টা বিদ্রুপ ও উপহাস থেকে দূরে থাকা। রাসুল ﷺ বলেছেন, “নেক কাজের ভেতর কোনোটাকে তুচ্ছ জ্ঞান করো না, যদি তা আপন ভাইয়ের সাথে তোমার হাস্যোজ্জ্বল সাক্ষাৎ করার তুল্যও হয়।” (মুসলিম)
  8. সালাম: পারস্পরিক সম্পর্ক বৃদ্ধিতে সালামের বিকল্প নেই। সালামের মাধ্যমে অন্ধকার দূরীভূত হয়। এজন্য রাসুল ﷺ বলেন, “পরস্পর সালাম বিনিময় কর।”
  9. মুছাফাহা: মুছাফাহা হলো পারস্পরিক ভালোবাসা ও হৃদয়াবেগ প্রকাশের দ্বিতীয় মাধ্যম। অর্থাৎ সালামের গোটা ভাবধারাই এদ্বারা পূর্ণতা প্রাপ্ত হয়। রাসুল ﷺ বলেছেন, “মুছাফাহার দ্বারা তোমাদের পারস্পরিক সালামের পূর্ণতাপ্রাপ্তি ঘটে।” (তিরমিযী)
  10. উৎকৃষ্ট নামে ডাকা: কাউকে তার পছন্দনীয় ভাষায় সম্বোধন করলে সে খুশী হয়। আন্তরিকতা চলে আসে। পক্ষান্তরে উপনামে বা বিকৃত নামে ডাকলে মন খারাপ করে সম্পর্ক নষ্ট হয়।
  11. ব্যক্তিগত ব্যাপারে ঔৎসুক্য: আন্তরিক ভালোবাসার একটি অন্যতম তাকিদ হচ্ছে, নিজের ব্যক্তিগত ব্যাপারের ন্যায় আপন ভাইয়ের ব্যক্তিগত ব্যাপারেও ঔৎসুক্য পোষণ করা। রাসুল ﷺ বলেছেন, “এক ব্যক্তি যখন অন্য ব্যক্তির সঙ্গে বন্ধুত্ব করবে, তখন তার কাছে থেকে তার নাম, তার পিতার নাম এবং তার গোত্র-পরিচয় জিজ্ঞেস করে নিবে। কারণ এর দ্বারা পারস্পরিক ভালোবাসার শিকড় অধিকতর মজবুত হয়।” (তিরমিযী)
  12. হাদীয়া: সম্পর্ক বৃদ্ধির অতি উত্তম পন্থা হল উপহার দেওয়া। রাসুল ﷺ বলেছেন, “একে অপরকে হাদিয়া পাঠাও, এরদ্বারা পারস্পরিক ভালোবাসা বৃদ্ধি পাবে এবং হৃদয়ের দূরত্ব ও শত্রুতা বিলীন হয়ে যাবে।” (মুয়াত্তা মালিক)
  13. শোকর-গোজারী: অপরের ভালোবাসা উপলব্ধিকে প্রকাশ করার জন্যে শোকর-গোজারী হচ্ছে একটি উত্তম পন্থা। রাসুল ﷺ কারো খেদমতে কিছু পেশ করা হলে শুকরিয়ার সাথে তা গ্রহণ করতেন এবং কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতেন।
  14. একত্রে বসে আহার: আন্তরিকতা, ভালবাসা প্রকাশের একটি চমৎকার পন্থা হল একত্রে বসে আহার করা। নবী কারীম ﷺ-এর কাছে কোন খাবার জিনিস থাকলে অথবা কোথাও থেকে কিছু আসলে তিনি গোটা মজলিসকে তাতে শরীক করতেন।
  15. দোয়া: একজন আরেকজনের জন্য দোয়া করলে যদি সে ব্যক্তি তা দেখতে পায় তবে সে মুগ্ধ হয়। এভাবে আল্লাহর কাছে প্রার্থনার মাধ্যমে সম্পর্ক বৃদ্ধি পায়।
  16. সুন্দরভাবে জবাব দেয়া: পারস্পরিক কথা বার্তায় কোন প্রশ্নের জবাব সুন্দর ভাবে দেয়া যায়। রাসুল ﷺ বলেছেন, “দুইজন প্রেমিকের মধ্যে সেই হচ্ছে শ্রেষ্ঠ, যে তার ভাইয়ের প্রতি অধিক ভালোবাসা পোষণ করে।”
  17. আপোষ রফা এবং অভিযোগ খন্ডন: কোন ব্যাপারে মনোমালিন্য হলে আপোষ করে নেয়া এবং অভিযোগ খন্ডন করা।

    অভিযোগ থেকে বাঁচতে হলে করণীয়:

    • প্রথমতঃ অভিযোগের সুযোগ না দেওয়া,
    • দ্বিতীয়তঃ দরাজদিল হওয়া উচিত,
    • তৃতীয়তঃ অভিযোগ লালন না করে তার ভাইয়ের নিকট প্রকাশ করা উচিত,
    • চতুর্থতঃ অভিযোগে অসন্তুষ্ট না হয়ে তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা উচিত,
    • পঞ্চমতঃ অভিযোগ জানবার সঙ্গে সঙ্গেই আত্মসংশোধনের চেষ্টা করা,
    • ষষ্ঠতঃ অভিযোগ স্বীকার করলে তাকে ক্ষমা করে দিতে কোনরূপ কার্পণ্য না করা।
  18. প্রভুর কাছে তাওফিক কামনা: বন্ধুত্ব, ভ্রাতৃত্ব ও ভালোবাসার সম্পর্ক হচ্ছে ঈমানের একটি বুনিয়াদী শর্ত। একজন ভাই আরেকজন ভাইয়ের জন্য আল্লাহর নিকট বিনীতভাবে মুনাজাত করা উচিত।

    আল্লাহ পবিত্র কুরআনে বলেন: “হে আমাদের প্রভু! আমাদেরকে এবং আমাদের সেই সব ভাইকে ক্ষমাদান কর যারা আমাদের পূর্বে ঈমান এনেছে এবং আমাদের দিলে ঈমানদার লোকদের জন্য কোন হিংসা ও শত্রুতাভাব রেখো না। হে আমাদের প্রভু! তুমি বড়ই অনুগ্রহ সম্পন্ন এবং করুণাময়।”

Top

আন্দোলন সংক্রান্ত আয়াত মুখস্ত

فَلْيُقَاتِلْ فِي سَبِيلِ اللَّهِ الَّذِينَ يَشْرُونَ الْحَيَاةَ الدُّنْيَا بِالْآخِرَةِ ۚ وَمَن يُقَاتِلْ فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَيُقْتَلْ أَوْ يَغْلِبْ فَسَوْفَ نُؤْتِيهِ أَجْرًا عَظِيمًا

সুতরাং যারা আখিরাতের বিনিময়ে দুনিয়ার জীবন বিক্রয় করে তারা যেন আল্লাহর রাস্তায় লড়াই করে। আর যে আল্লাহর রাস্তায় লড়াই করবে অতঃপর সে নিহত হোক কিংবা বিজয়ী, অচিরেই আমি তাকে দেব মহা পুরস্কার। (সূরা নিসা: ৭৪)

وَمَا لَكُمْ لَا تُقَاتِلُونَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَالْمُسْتَضْعَفِينَ مِنَ الرِّجَالِ وَالنِّسَاءِ وَالْوِلْدَانِ الَّذِينَ يَقُولُونَ رَبَّنَا أَخْرِجْنَا مِنْ هَٰذِهِ الْقَرْيَةِ الظَّالِمِ أَهْلُهَا وَاجْعَل لَّنَا مِن لَّدُنكَ وَلِيًّا وَاجْعَل لَّنَا مِن لَّدُنكَ نَصِيرًا

তোমাদের কী হয়েছে যে, তোমরা আল্লাহর পথে এবং অসহায় নারী-পুরুষ আর শিশুদের (রক্ষার) জন্য লড়াই করবে না, যারা দু‘আ করছে- ‘হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদেরকে এ যালিম অধ্যূষিত জনপথ হতে মুক্তি দাও, তোমার পক্ষ হতে কাউকেও আমাদের বন্ধু বানিয়ে দাও এবং তোমার পক্ষ হতে কাউকেও আমাদের সাহায্যকারী করে দাও। (সূরা নিসা: ৭৫)

ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ يُقَـٰتِلُونَ فِى سَبِيلِ ٱللَّهِ‌ۖ وَٱلَّذِينَ كَفَرُواْ يُقَـٰتِلُونَ فِى سَبِيلِ ٱلطَّـٰغُوتِ فَقَـٰتِلُوٓاْ أَوْلِيَآءَ ٱلشَّيْطَـٰنِ‌ۖ إِنَّ كَيْدَ ٱلشَّيْطَـٰنِ كَانَ ضَعِيفًا

যারা ঈমান এনেছে তারা লড়াই করে আল্লাহর রাস্তায়, আর যারা কুফরী করেছে তারা লড়াই করে তাগূতের পথে। সুতরাং তোমরা লড়াই কর শয়তানের বন্ধুদের বিরুদ্ধে। নিশ্চয় শয়তানের চক্রান্ত দুর্বল।(সূরা নিসা: ৭৬)

قُلْ إِن كَانَ ءَابَآؤُكُمْ وَأَبْنَآؤُكُمْ وَإِخْوَٲنُكُمْ وَأَزْوَٲجُكُمْ وَعَشِيرَتُكُمْ وَأَمْوَٲلٌ ٱقْتَرَفْتُمُوهَا وَتِجَـٰرَةٌ تَخْشَوْنَ كَسَادَهَا وَمَسَـٰكِنُ تَرْضَوْنَهَآ أَحَبَّ إِلَيْكُم مِّنَ ٱللَّهِ وَرَسُولِهِۦ وَجِهَادٍ فِى سَبِيلِهِۦ فَتَرَبَّصُواْ حَتَّىٰ يَأْتِىَ ٱللَّهُ بِأَمْرِهِۦ‌ۗ وَٱللَّهُ لَا يَهْدِى ٱلْقَوْمَ ٱلْفَـٰسِقِينَ

বলুন, তোমাদের নিকট যদি আল্লাহ, তার রাসূল এবং তাঁর (আল্লাহর) পথে জিহাদ করার চেয়ে বেশী প্রিয় হয় তোমাদের পিতৃবর্গ, তোমাদের সন্তানরা, তোমাদের ভ্রাতাগণ, তোমাদের স্ত্রীগণ, তোমাদের আপনগোষ্ঠী, তোমাদের অর্জিত সম্পদ, তোমাদের ব্যবসা-বাণিজ্য যার মন্দা পড়ার আশংকা কর এবং তোমাদের বাসস্থান যা তোমরা ভালবাস , তবে অপেক্ষা কর আল্লাহ্ তাঁর নির্দেশ নিয়ে আসা পর্যন্ত আর আল্লাহ ফাসিক সম্প্রদায়কে হেদায়াত দেন না। সূরা আত-তাওবা: ২৪

يَـٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ مَا لَكُمْ إِذَا قِيلَ لَكُمُ ٱنفِرُواْ فِى سَبِيلِ ٱللَّهِ ٱثَّاقَلْتُمْ إِلَى ٱلْأَرْضِ‌ۚ أَرَضِيتُم بِٱلْحَيَوٲةِ ٱلدُّنْيَا مِنَ ٱلْأَخِرَةِ‌ۚ فَمَا مَتَـٰعُ ٱلْحَيَوٲةِ ٱلدُّنْيَا فِى ٱلْأَخِرَةِ إِلَّا قَلِيلٌ

হে বিশ্বাসীগণ! তোমাদের কি হলো যে, যখন তোমাদেরকে আল্লাহর পথে (জিহাদে) বের হতে বলা হয়, তখন তোমরা ভারাক্রান্ত হয়ে মাটিতে বসে পড়। তবে কি তোমরা পরকালের বিনিময়ে পার্থিব জীবন নিয়ে পরিতুষ্ট হয়ে গেলে? বস্তুতঃ পার্থিব জীবনের ভোগবিলাস তো পরকালের তুলনায় অতি সামান্য। সূরা আত-তাওবা: ৩৮

إِلَّا تَنفِرُواْ يُعَذِّبْكُمْ عَذَابًا أَلِيمًا وَيَسْتَبْدِلْ قَوْمًا غَيْرَكُمْ وَلَا تَضُرُّوهُ شَيْــًٔا‌ۗ وَٱللَّهُ عَلَىٰ كُلِّ شَىْءٍ قَدِيرٌ

যদি তোমরা (জিহাদে) বের না হও, তাহলে আল্লাহ তোমাদেরকে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি প্রদান করবেন এবং তোমাদের পরিবর্তে অন্য এক জাতি সৃষ্টি করবেন, আর তোমরা তাঁর কোনই ক্ষতি করতে পারবে না। আর আল্লাহ সর্ববিষয়ে শক্তিমান। সূরা আত-তাওবা: ৩৯

إِلَّا تَنصُرُوهُ فَقَدْ نَصَرَهُ ٱللَّهُ إِذْ أَخْرَجَهُ ٱلَّذِينَ كَفَرُواْ ثَانِىَ ٱثْنَيْنِ إِذْ هُمَا فِى ٱلْغَارِ إِذْ يَقُولُ لِصَـٰحِبِهِۦ لَا تَحْزَنْ إِنَّ ٱللَّهَ مَعَنَا‌ۖ فَأَنزَلَ ٱللَّهُ سَكِينَتَهُۥ عَلَيْهِ وَأَيَّدَهُۥ بِجُنُودٍ لَّمْ تَرَوْهَا وَجَعَلَ كَلِمَةَ ٱلَّذِينَ كَفَرُواْ ٱلسُّفْلَىٰ‌ۗ وَكَلِمَةُ ٱللَّهِ هِىَ ٱلْعُلْيَا‌ۗ وَٱللَّهُ عَزِيزٌ حَكِيمٌ

যদি তোমরা তাকে (রাসূলুল্লাহকে) সাহায্য না কর, তাহলে আল্লাহই (তাকে সাহায্য করবেন যেমন তিনি) তাকে সাহায্য করেছিলেন সেই সময়ে, যখন অবিশ্বাসীরা তাকে (মক্কা হতে) বহিষ্কার করে দিয়েছিল, যখন সে ছিল দুজনের মধ্যে একজন; যখন উভয়ে গুহার মধ্যে ছিল। সে তখন স্বীয় সঙ্গী (আবু বাকর)কে বলেছিল, ‘তুমি বিষণ্ন হয়ো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ আমাদের সঙ্গে রয়েছেন। অতঃপর আল্লাহ তার প্রতি স্বীয় সান্ত্বনা অবতীর্ণ করলেন এবং এমন সেনাদল দ্বারা তাকে শক্তিশালী করলেন, যাদেরকে তোমরা দেখতে পাওনি এবং তিনি অবিশ্বাসীদের বাক্য নীচু করে দিলেন, আর আল্লাহর বাণীই সমুচ্চ রইল। আর আল্লাহ পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়। সূরা আত-তাওবা: ৪০

ٱنفِرُواْ خِفَافًا وَثِقَالاً وَجَـٰهِدُواْ بِأَمْوَٲلِكُمْ وَأَنفُسِكُمْ فِى سَبِيلِ ٱللَّهِ‌ۚ ذَٲلِكُمْ خَيْرٌ لَّكُمْ إِن كُنتُمْ تَعْلَمُونَ

অভিযানে বের হয়ে পড়, হালকা অবস্থায় হোক বা ভারি অবস্থায় এবং জিহাদ কর আল্লাহ্র পথে তোমাদের সম্পদ ও জীবন দ্বারা। এটাই তোমাদের জন্য উত্তম, যদি তোমরা জানতে! সূরা আত-তাওবা: ৪১

هُوَ ٱلَّذِىٓ أَرْسَلَ رَسُولَهُۥ بِٱلْهُدَىٰ وَدِينِ ٱلْحَقِّ لِيُظْهِرَهُۥ عَلَى ٱلدِّينِ كُلِّهِۦ وَلَوْ كَرِهَ ٱلْمُشْرِكُونَ
يَـٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ هَلْ أَدُلُّكُمْ عَلَىٰ تِجَـٰرَةٍ تُنجِيكُم مِّنْ عَذَابٍ أَلِيمٍ
تُؤْمِنُونَ بِٱللَّهِ وَرَسُولِهِۦ وَتُجَـٰهِدُونَ فِى سَبِيلِ ٱللَّهِ بِأَمْوَٲلِكُمْ وَأَنفُسِكُمْ‌ۚ ذَٲلِكُمْ خَيْرٌ لَّكُمْ إِن كُنتُمْ تَعْلَمُونَ
يَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَيُدْخِلْكُمْ جَنَّـٰتٍ تَجْرِى مِن تَحْتِهَا ٱلْأَنْهَـٰرُ وَمَسَـٰكِنَ طَيِّبَةً فِى جَنَّـٰتِ عَدْنٍ‌ۚ ذَٲلِكَ ٱلْفَوْزُ ٱلْعَظِيمُ

(৯) তিনিই তাঁর রসূলকে হিদায়াত ও সত্য দীনসহ পাঠিয়েছেন তাকে সকল দীনের উপর বিজয়ী করার জন্য- যদিও মুশরিকরা (তা) অপছন্দ করে।

(১০) হে মু’মিনগণ! আমি কি তোমাদেরকে এমন এক ব্যবসায়ের সন্ধান দেব যা তোমাদেরকে মর্মান্তিক ‘আযাব থেকে রক্ষা করবে?

(১১) (তা এই যে,) তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রসূলে বিশ্বাস স্থাপন করবে এবং তোমাদের ধন-সম্পদ ও জীবন দ্বারা আল্লাহর পথে জিহাদ করবে। এটাই তোমাদের জন্য শ্রেয়, যদি তোমরা জানতে।

(১২) আল্লাহ তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করে দেবেন এবং তোমাদেরকে প্রবেশ করাবেন জান্নাতে যার পাদদেশে নদী প্রবাহিত, এবং স্থায়ী জান্নাতের উত্তম বাসগৃহে। এটাই মহাসাফল্য।

সূরা আস-সাফ: ৯-১২

شَرَعَ لَكُم مِّنَ ٱلدِّينِ مَا وَصَّىٰ بِهِۦ نُوحًا وَٱلَّذِىٓ أَوْحَيْنَآ إِلَيْكَ وَمَا وَصَّيْنَا بِهِۦٓ إِبْرَٲهِيمَ وَمُوسَىٰ وَعِيسَىٰٓ‌ۖ أَنْ أَقِيمُواْ ٱلدِّينَ وَلَا تَتَفَرَّقُواْ فِيهِ‌ۚ كَبُرَ عَلَى ٱلْمُشْرِكِينَ مَا تَدْعُوهُمْ إِلَيْهِ‌ۚ ٱللَّهُ يَجْتَبِىٓ إِلَيْهِ مَن يَشَآءُ وَيَهْدِىٓ إِلَيْهِ مَن يُنِيب

তিনি তোমাদের জন্য বিধিবদ্ধ করেছেন দ্বীন, যার নির্দেশ দিয়েছিলেন তিনি নূহকে, আর যা আমরা ওহী করেছি আপনাকে এবং যার নির্দেশ দিয়েছিলাম ইবরাহীম, মুসা ও ঈসাকে, এ বলে যে, তোমরা দ্বীনকে প্রতিষ্ঠিত কর এবং তাতে বিভেদ সৃষ্টি কর না। আপনি মুশরিকদেরকে যার প্রতি ডাকছেন তা তাদের কাছে কঠিন মনে হয়। আল্লাহ যাকে ইচ্ছে তার দ্বীনের প্রতি আকৃষ্ট করেন এবং যে তাঁর অভিমুখী হয় তাকে তিনি দ্বীনের দিকে হেদায়াত করেন।

সূরা আশ-শুরা: ১৩

وَجَـٰهِدُواْ فِى ٱللَّهِ حَقَّ جِهَادِهِۦ‌ۚ هُوَ ٱجْتَبَـٰكُمْ وَمَا جَعَلَ عَلَيْكُمْ فِى ٱلدِّينِ مِنْ حَرَجٍ‌ۚ مِّلَّةَ أَبِيكُمْ إِبْرَٲهِيمَ‌ۚ هُوَ سَمَّـٰكُمُ ٱلْمُسْلِمِينَ مِن قَبْلُ وَفِى هَـٰذَا لِيَكُونَ ٱلرَّسُولُ شَهِيدًا عَلَيْكُمْ وَتَكُونُواْ شُهَدَآءَ عَلَى ٱلنَّاسِ‌ۚ فَأَقِيمُواْ ٱلصَّلَوٲةَ وَءَاتُواْ ٱلزَّكَوٲةَ وَٱعْتَصِمُواْ بِٱللَّهِ هُوَ مَوْلَـٰكُمْ‌ۖ فَنِعْمَ ٱلْمَوْلَىٰ وَنِعْمَ ٱلنَّصِيرُ

আর জিহাদ কর আল্লাহর পথে যেভাবে জিহাদ করা উচিত তিনি তোমাদেরকে মনোনীত করেছেন । তিনি দ্বীনের ব্যাপারে তোমাদের উপর কোন সংকীর্ণতা রাখেননি । তোমাদের পিতা ইবরাহীমের মিল্লাত । তিনি আগে তোমাদের নামকরণ করেছেন ‘মুসলিম’ এবং এ কিতাবেও যাতে রাসূল তোমাদের জন্য সাক্ষীস্বরূপ হন এবং তোমরা সাক্ষীস্বরূপ হও মানুষের জন্য। কাজেই তোমরা সালাত কায়েম কর, যাকাত দাও এবং আল্লাহকে মজবুতভাবে অবলম্বন কর ; তিনিই তোমাদের অভিভাবক, তিনি কতই না উত্তম অভিভাবক আর কতই না উত্তম সাহায্যকারী!

সূরা হজ্জ: ৭৮

আন্দোলন সংক্রান্ত হাদীস

হাদীস নম্বর: ৮০০

وَرُوِيَ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : الشُّهَدَاءُ ثَلَاثَةَ رَجُلٌ خَرَجَ بنَفْسِهِ وَمَالِهِ فِي سَبِيلِ اللَّهِ لَا يُرِيدُ أَنْ يُقَاتِلُ، وَلَا يُقْتَلُ. يُكَثَرُ سَوَادَ الْمُسْلِمِينَ، فَإِنْ مَاتَ أَوْ قُتِلَ غُفِرَتْ لَهُ ذُنُوبُهُ كُلُّها. وَأَخَرَ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ، وَيُؤْعَنُ مِنَ الْفَرْعِ وَيُروعُ مِنَ الْمُوْرِ الْعِينِ، وَكَلَّتْ عَلَيْهِ حُلَةُ الْكَرَاكَ ويُوضع على واسم تاج الْوَفَّارِ وَالْخُلْدِ، وَالثَّانِي خَرَجَ بِنَفْسِهِ وَمَالِهِ مُحْتَسِنَا يُولِدُ أن يُقتل ولا يُقتل فإن مات أو قبلَ كَانَتْ وكَبَتُهُ مَعَ انواهِيمَ خَلِيلِ الرَّحْمَنِ عَلَيْهِ السلامُ - بين يدي الله تَبَارَكَ وَتَعَالَى فِي مَقْعَدِ صِدْقٍ عِنْدَ عَلِيْهِ مُقْتَدِرٍ، وَالثَّالِثُ خرَجَ بِنَفْسِهِ وَمَالِهِ مُحْتَسِبًا يُرِيدُ أَنْ يَقْتَلَ وَيُقْتَلُ، فَإِنَّ مات أَوْ قُتِلَ جَاءَ يَوْمَ الْقِيَامَة هَرا سَبَقَةٌ وَاضِعَهُ عَلَى عَانِهِم . وَالنَّاسُ جَا ثُوْنَ عَلَى الرُّكَّبِ، يَقُولُ أَلَا أَفْسَحُوا لَنَا فَإِنَّا قَدْ بدلنا دِمَاء نَا وَأَمْوَالَنَا لِلهِ تَبَارَكَ وَتَعَالَى ، قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِمٍ لَوْ قَالَ ذَلِكَ لا براهِيمَ خَلِيلِ الرَّحْمَنِ عَلَيْهِ السَّلَامُ أَوْ لِنَّبِيِّ مِنَ الْأَنْبِيَاءِ لزحلَ لَهُمْ عَنِ الطَّرِيقِ ، لما يولى مِنْ وَاجِبِ حَقِّهِمْ حَتَّى يَأْتُوا منَارِيرَ مِنْ نُورٍ تَحْتَ الْعَرْشِ، فَيَجْلِسُوا عَلَيْهَا يَنظُرُوْنَ كَيْفَ يقضى بَيْنَ النَّاسِ لا يَجِدُونَ عمَّ الْمَوْتِ، وَلَا يَفْتَقُوْنَ فِي الْبَرْزَعِ، وَلَا تُفْزِعُهُمُ الصُّبَحَةُ، وَلَا يَهْتُهُمُ الْحِسَابُ، وَلَا الْمِيزَانُ، وَلَا الصِّرَاطَ ، يَنْظُرُونَ كَيْفَ يُقْضَى بَيْنَ النَّاسِ، وَلَا يَسْأَلُوْنَ شَيْئًا إِلَّا أَعْطُوا وَلَا يَشْفَعُونَ فِي شَيْ إِلَّا شَقِمُوا فِيْهِ، وَيُعْطَوْنَ مِنَ الْجَنَّةِ مَا أَحَبُّوا، وَيَتَبَوَّ نُوْنَ مِنَ الْجَنَّةِ حَيْثُ أَحَبُّوا رَوَاهُ الْبَزَّارُ، وَالْمُبْهَنِي وَالْإِسْتَهَابِنُ وَهُوَ حَدِيثٌ غَرِيبٌ

অনুবাদ: হযরত আনাস ইবনে মালেক (রা) থেকে বর্ণিত। রসূল (সা) বলেছেনঃ শহীদরা তিন রকমের।

১. প্রথমত, যে ব্যক্তি নিজের জান ও মাল উৎসর্গ করে আল্লাহর পথে বের হয়, কিন্তু সে লড়াই করতেও চায় না, নিহত হতেও চায় না। সে চায় মুসলমানদের সংখ্যা বাড়াতে। এই পথে চেষ্টা-সাধনা করতে গিয়ে যদি সে মারা যায় বা নিহত হয়, তবে তার সমস্ত গুনাহ মাফ করা হবে, তাকে কবর আযাব থেকে রেহাই দেয়া হবে। কিয়ামতের সময়কার মহা আতংক থেকে তাকে নিরাপদ রাখা হবে, জান্নাতের অনুপম সুন্দরী হুর সাথে তার বিয়ে দেয়া হবে। তাকে পরম সম্মানের পোশাক পরানো হবে, তার মাথায় সম্মানজনক ও অনন্তকাল স্থায়ী মুকুট পরানো হবে।

২. আর দ্বিতীয় শ্রেণীর হলো এমন লোক, যে জান ও মাল নিয়ে একনিষ্ঠভাবে বের হয়। হত্যা করতে চায়, কিন্ত নিহত হতে চায় না। সে যদি মারা যায় বা নিহত হয় তবে সে আল্লাহ তায়ালার সামনে হযরত ইবরাহীমের সাথে পাশাপাশি আসনে বসবে।

৩. তৃতীয় যে ব্যক্তি নিজের জান ও মাল সহ আন্তরিকতা সহকারে আল্লাহর পথো বের হয়, সে হত্যাও করতে চায়, নিহত হতেও তার আপত্তি নেই। সে যদি মারা যায় অথবা নিহত হয় তবে সে কিয়ামতের দিন নিজের তরবারী ঘাড়ে ঝুলিয়ে সবাইকে দেখাতে দেখাতে আসবে। লোকেরা ভীড় জমিয়ে থাকবে। সে বলবেঃ আমাদের জন্য জায়গা করে দাও। আমরা আল্লাহর উদ্দেশ্যে রক্ত ও অর্থব্যয় করে এসেছি।

রসূল (সা) বলেন: আল্লাহর কসম, তারা যদি হযরত ইবরাহীমকে বা অন্য কোন নবীকেও এ কথা বলতো, তবে তিনি পথ ছেড়ে দিতেন। কেননা তাদের কত গুরুত্ব ও অধিকার, তা তিনি দেখবেন। অবশেষে তারা আরশের নীচে কিছুসংখ্যক আলোর মিম্বরে বসবে। সেখানে বসে তারা কিভাবে বিচারকার্য সমাধা করা হয় তা দেখবে তারা মৃত্যুর কষ্ট অনুভব করবে না, কবরে কোন আযাব ভোগ করবে না। চিৎকার ধ্বনি শুনে তারা পেরেশান হবে না। হিসেব-নিকাশের জন্য তারা কোন দুশ্চিন্তা ভুগবে না। দাঁড়িপাল্লা এবং পুলসিরাত নিয়েও তারা ভাবনায় পড়বে না তার বিচারকার্য প্রত্যক্ষ করবে। তারা যা কিছুই চাইবে তা পাবে; যার জন্যই সুপারি করতে চাইবে, করতে পারবে। জান্নাতে তারা যা পছন্দ করবে তাই পাবে এক বেহেশতে যেখানেই তারা থাকতে চাইবে থাকতে পারবে।

(বাযযার, বাইহাকী, ইসপাহানী - আত তারগীব ওয়া তারহীব, ২য় খন্ড, ৮০০ নং হাদীস)

Top

যাকাত সংক্রান্ত মাসআলা-মাসায়েল

যাকাতের বিধান সংক্রান্ত আয়াত ও হাদীস

وَقَالُواْ لَن يَدْخُلَ ٱلْجَنَّةَ إِلَّا مَن كَانَ هُودًا أَوْ نَصَـٰرَىٰ‌ۗ تِلْكَ أَمَانِيُّهُمْ‌ۗ قُلْ هَاتُواْ بُرْهَـٰنَكُمْ إِن كُنتُمْ صَـٰدِقِي

‘তোমরা সালাত আদায় কর এবং যাকাত প্রদান কর। তোমরা যে উত্তম কাজ নিজেদের জন্য অগ্রে প্রেরণ করবে তা আল্লাহর নিকটে পাবে। নিশ্চয়ই তোমরা যা কর আল্লাহ তা দেখছেন। - সূরা বাকারা: ১১০

وَأَقِيمُواْ ٱلصَّلَوٲةَ وَءَاتُواْ ٱلزَّكَوٲةَ وَأَطِيعُواْ ٱلرَّسُولَ لَعَلَّكُمْ تُرْحَمُونَ

তোমরা সালাত আদায় কর, যাকাত দাও এবং রাসূলের আনুগত্য কর যাতে তোমরা অনুগ্রহভাজন হতে পার।’ - সূরা নূর: ৫৬

لَّـٰكِنِ ٱلرَّٲسِخُونَ فِى ٱلِلْمِ مِنْهُمْ وَٱلْمُؤْمِنُونَ يُؤْمِنُونَ بِمَآ أُنزِلَ إِلَيْكَ وَمَآ أُنزِلَ مِن قَبْلِكَ‌ۚ وَٱلْمُقِيمِينَ ٱلصَّلَوٲةَ‌ۚ وَٱلْمُؤْتُونَ ٱلزَّكَوٲةَ وَٱلْمُؤْمِنُونَ بِٱللَّهِ وَٱلْيَوْمِ ٱلْأَخِرِ أُوْلَـٰٓئِكَ سَنُؤْتِيهِمْ أَجْرًا عَظِيمًا

‘কিন্তু তাদের মধ্যে যারা জ্ঞানে পরিপক্ক এবং মুমিনগণ- যারা তোমার প্রতি যা নাযিল হয়েছে এবং যা নাযিল হয়েছে তোমার পূর্বে- তাতে ঈমান আনে। আর যারা সালাত প্রতিষ্ঠাকারী ও যাকাত প্রদানকারী এবং আল্লাহ ও শেষ দিনে ঈমান আনয়নকারী, তাদেরকে অচিরেই আমি মহাপুরস্কার প্রদান করব। - সূরা নিসা: ১৬২

مَنْ آتَاهُ اللهُ مَالاً فَلَمْ يُؤَدِّ زَكَاتَهُ مُثِّلَ لَهُ مَالُهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ شُجَاعًا أَقْرَعَ لَهُ زَبِيبَتَانِ يُطَوَّقُهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ ثُمَّ يَأْخُذُ بِلِهْزِمَتَيْهِ يَعْنِي بِشِدْقَيْهِ ثُمَّ يَقُولُ أَنَا مَالُكَ أَنَا كَنْزُكَ

‘যাকে আল্লাহ সম্পদ দিয়েছেন, কিন্তু সে তার যাকাত দেয়নি কিয়ামতের দিন তা বিষধর স্বর্পরূপে উপস্থিত হবে এবং তা তার গলায় পেঁচিয়ে দেওয়া হবে...।’ (সহীহ বুখারী- ১৪০৩)

যাদের ওপর যাকাত ফরজ হয়

সুস্থমস্তিষ্ক, আজাদ, বালেগ মুসলমান নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হলে যাকাত আদায় করা তার ওপর ফরজ হয়ে যায়। (আদ্দুররুল মুখতার ২/২৫৯, বাদায়েউস সানায়ে ২/৭৯)

যেসব জিনিসের ওপর যাকাত ফরজ হয়
  1. সব ধরনের সম্পদ ও সামগ্রীর ওপর যাকাত ফরজ হয় না। শুধু সোনা-রুপা, টাকা-পয়সা, পালিত পশু এবং ব্যবসার পণ্যে যাকাত ফরজ হয়।
  2. সোনা-রুপার অলংকার সর্বদা বা কালেভদ্রে ব্যবহৃত হোক কিংবা একেবারেই ব্যবহার না করা হোক সর্বাবস্থাতেই তার যাকাত দিতে হবে।
  3. অলংকার ছাড়া সোনা-রুপার অন্যান্য সামগ্রীর ওপরও যাকাত ফরজ হয়।
  4. জামা-কাপড় বা অন্য সামগ্রীতে সোনা-রুপার কারুকাজ করা থাকলে তা-ও হিসাবের অন্তর্ভুক্ত হবে।
  5. মৌলিক প্রয়োজন থেকে উদ্ধৃত্ত টাকা-পয়সা নিসাব পরিমাণ হলে এবং এক বছর স্থায়ী হলে বছর শেষে যাকাত ফরজ হয়। ব্যাংক ব্যালেন্স, ফিক্সড ডিপোজিট, বন্ড, সার্টিফিকেট ইত্যাদিও নগদ টাকার মতোই।
  6. টাকা-পয়সা ব্যবসায় না খাটিয়ে এমনি রেখে দিলেও তাতে যাকাত ফরজ হয়।
  7. হজ্ব, ঘর-বাড়ি নির্মাণ বা বিয়ের জন্য সঞ্চিত অর্থ নিসাব পরিমাণ হলে বছরান্তে যাকাত দিতে হবে।
  8. দোকান-পাটে বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে রাখা পণ্য (বাণিজ্য-দ্রব্য) নিসাব পরিমাণ হলে যাকাত দিতে হবে।
  9. ব্যবসার নিয়তে কেনা স্থাবর/অস্থাবর যেকোনো সম্পত্তি (জমি, ফ্ল্যাট, গাড়ি, সামগ্রী ইত্যাদি) বাণিজ্য-দ্রব্য বলে গণ্য হবে।
নিসাব সংক্রান্ত মাসআলা
  1. স্বর্ণের ক্ষেত্রে নিসাব: ২০ মিসকাল (সাড়ে সাত তোলা)।
  2. রুপার ক্ষেত্রে নিসাব: ২০০ দিরহাম (সাড়ে বায়ান্ন তোলা)।
  3. টাকা-পয়সা বা বাণিজ্য-দ্রব্যের মূল্য সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপার সমপরিমাণ হলে নিসাব পূর্ণ ধরা হবে।
  4. পৃথকভাবে কোনোটি নিসাব পরিমাণ না থাকলেও বিভিন্ন সামগ্রী মিলে সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপার সমমূল্য হলে যাকাত দিতে হবে।
  5. বছরের মাঝে নতুন সম্পদ অর্জিত হলে তা পুরাতন সম্পদের সাথে যুক্ত হবে এবং পুরাতন সম্পদের বছর পূর্ণ হলেই মোট সম্পদের যাকাত দিতে হবে।
  6. বছরের শুরু ও শেষে নিসাব পূর্ণ থাকলে যাকাত আদায় করতে হবে।
যাদেরকে যাকাত দেওয়া যাবে ও যাবে না
إِنَّمَا ٱلصَّدَقَـٰتُ لِلْفُقَرَآءِ وَٱلْمَسَـٰكِينِ وَٱلْعَـٰمِلِينَ عَلَيْهَا وَٱلْمُؤَلَّفَةِ قُلُوبُهُمْ وَفِى ٱلرِّقَابِ وَٱلْغَـٰرِمِينَ وَفِى سَبِيلِ ٱللَّهِ وَٱبْنِ ٱلسَّبِيلِ‌ۖ فَرِيضَةً مِّنَ ٱللَّهِ‌ۗ وَٱللَّهُ عَلِيمٌ حَكِيمٌ

‘যাকাত তো কেবল নিঃস্ব, অভাবগ্রস্ত ও যাকাতের কাজে নিযুক্ত ব্যক্তিদের জন্য...’ (সূরা তাওবা: ৬০)

  1. গরীব ও নিঃস্ব ব্যক্তিকে যাকাত দেওয়া যাবে।
  2. নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক বা প্রয়োজনের অতিরিক্ত সম্পদের মালিককে যাকাত দেওয়া যাবে না।
  3. ঋণগ্রস্ত ব্যক্তি এবং পথভোলা মুসাফিরকে দেওয়া যাবে।
  4. যাকাত শুধু মুসলমানদেরই দেওয়া যাবে।
  5. যাকাতের টাকা জনকল্যাণমূলক কাজ (রাস্তাঘাট, মসজিদ-মাদরাসা নির্মাণ) বা পারিশ্রমিক হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না; উপযুক্ত ব্যক্তিকে মালিক বানিয়ে দিতে হবে।
  6. ভাই, বোন, চাচা, মামা ইত্যাদি আত্মীয়দের দেওয়া যাবে, তবে নিজ পিতা-মাতা, দাদা-দাদী, সন্তান-সন্ততি এবং স্বামী-স্ত্রী একে অপরকে দেওয়া যাবে না।
রেফারেন্স

Top

"সর্বস্বত সংরক্ষিত© ২০২৩ এস এম হোমিওপ্যাথি মেডিকেল সেন্টার; ব্লগঃ ডিজাইনে SIAAM