
ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদের জন্য দরস, বই নোট, বিষয়ভিত্তিক আয়াত-হাদিস ও মাসয়ালা সংকলন
সূরা আল-কাউসার হলো কুরআনের ১০৮ নম্বর সূরা, যা মক্কায় অবতীর্ণ এবং ৩টি আয়াত নিয়ে গঠিত। এটি নবী মুহাম্মদ (সাঃ)-কে সান্ত্বনা ও মর্যাদা দানের উদ্দেশ্যে নাযিল হয়েছে, কারণ তাঁর পুত্রসন্তান না থাকায় কাফেররা তাকে উপহাস করত। এই সূরাতে আল্লাহ তাঁর রাসূলকে সালাত আদায় এবং কোরবানি দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন এবং তাঁর শত্রুদের চূড়ান্তভাবে ধ্বংস হওয়ার সুসংবাদ দিয়েছেন।
এটি সংক্ষিপ্ত হলেও গভীর অর্থবাহী এক সূরা, যেখানে আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রিয় রাসূল ﷺ-কে অসীম সুখবর দিয়েছেন এবং একটি স্পষ্ট দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।
إِنَّا أَعْطَيْنَاكَ الْكَوْثَرَ
"ইন্না আ'ত্বইনা কাল কাওসার।"
"নিশ্চয়ই আমি আপনাকে কাওসার দান করেছি।"
فَصَلِّ لِرَبِّكَ وَانْحَرْ
"ফাছল্লি লি রব্বিকা ওয়ান হ্বার"
"অতএব, আপনার রবের উদ্দেশে নামাজ আদায় করুন এবং কুরবানি করুন।"
إِنَّ شَانِئَكَ هُوَ الْأَبْتَرُ
"ইন্না শা নিয়াকা হুয়াল আবতার।"
"নিশ্চয়ই তোমার শত্রুই হলো শিকড় বিহীন-গাছের মতো (বংশধর হীন)।"
লেখক: অধ্যাপক গোলাম আযম
"পলাশী থেকে বাংলাদেশ" হলো অধ্যাপক গোলাম আযমের লেখা একটি বই, যা **১৯০ বছর ধরে ব্রিটিশ শাসনের পটভূমি, পাকিস্তান আমলের কুশাসন, এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলন** সম্পর্কে আলোচনা করে। এই বইটিতে **১৯৭১ সালে জামায়াতের রাজনৈতিক ভূমিকা** বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
লেখক: অধ্যাপক গোলাম আযম
বইটিতে **১০ টি অধ্যায়** রয়েছে।
পরামর্শ বা 'শুরা' মুমিনদের একটি অন্যতম বৈশিষ্ট্য এবং রাসূল (সা.)-কেও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে পরামর্শ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
فَبِمَا رَحْمَةٍ مِّنَ اللَّهِ لِنتَ لَهُمْ ۖ وَلَوْ كُنتَ فَظًّا غَلِيظَ الْقَلْبِ لَانفَضُّوا مِنْ حَوْلِكَ ۖ فَاعْفُ عَنْهُمْ وَاسْتَغْفِرْ لَهُمْ وَشَاوِرْهُمْ فِي الْأَمْرِ ۖ فَإِذَا عَزَمْتَ فَتَوَكَّلْ عَلَى اللَّهِ ۚ إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الْمُتَوَكِّلِينَ
"সুতরাং আল্লাহর পক্ষ থেকে রহমতের কারণে তুমি তাদের জন্য নম্র হয়েছিলে। আর যদি তুমি কঠোর স্বভাবের, কঠিন হৃদয়সম্পন্ন হতে, তবে তারা তোমার আশপাশ থেকে সরে পড়ত। সুতরাং তাদেরকে ক্ষমা কর এবং তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা কর। আর কাজে-কর্মে তাদের সাথে **পরামর্শ কর।** অতঃপর যখন সংকল্প করবে তখন আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল (ভরসা) করবে। নিশ্চয় আল্লাহ তাওয়াক্কুলকারীদেরকে ভালবাসেন।"
রেফারেন্স: সূরা আলে ইমরান (৩), আয়াত: ১৫৯وَالَّذِينَ اسْتَجَابُوا لِرَبِّهِمْ وَأَقَامُوا الصَّلَاةَ وَأَمْرُهُمْ شُورَىٰ بَيْنَهُمْ وَمِمَّا رَزَقْنَاهُمْ يُنفِقُونَ
"আর যারা তাদের রবের ডাকে সাড়া দেয়, সালাত কায়েম করে এবং তাদের কার্যাবলী **পরস্পর পরামর্শের মাধ্যমে সম্পাদিত হয়।** আর তাদেরকে আমরা যে রিযিক দিয়েছি তা থেকে ব্যয় করে।"
রেফারেন্স: সূরা আশ-শূরা (৪২), আয়াত: ৩৮الْمُسْتَشَارُ مُؤْتَمَنٌ
"যাঁর কাছে **পরামর্শ চাওয়া হয়, সে আমানতদার**।"
রেফারেন্স: সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৪৯৬৬; সুনানে তিরমিযী, হাদিস: ২৮২২; সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস: ৩৭৪৫مَا خَابَ مَنِ اسْتَخَارَ، وَلاَ نَدِمَ مَنِ اسْتَشَارَ
"যে ইস্তিখারা (আল্লাহর কাছে কল্যাণ চাওয়া) করে, সে ব্যর্থ হয় না এবং যে **পরামর্শ করে, সে অনুতপ্ত হয় না**।" (যদিও এটি ইস্তিখারা সম্পর্কিত হাদিসের অংশ, তবে পরামর্শের ফলপ্রসূতা তুলে ধরে)
রেফারেন্স: আল-মুজাম আল-আওসাত, ইমাম তাবরানী, হাদিস: ৮৩৯৬ (এটি দুর্বল সূত্রে বর্ণিত, তবে এর অর্থ সমর্থিত)إِذَا كَانَتْ أُمَرَاؤُكُمْ خِيَارَكُمْ، وَأَغْنِيَاؤُكُمْ سُمَحَاءَكُمْ، وَأَمْرُكُمْ شُورَىٰ بَيْنَكُمْ، فَظَهْرُ الْأَرْضِ خَيْرٌ لَكُمْ مِنْ بَطْنِهَا
"যখন তোমাদের **নেতারা হবেন ভালো মানুষ**, তোমাদের ধনীরা হবেন দানশীল এবং **তোমাদের কার্যক্রম চলবে পরামর্শের ভিত্তিতে,** তখন মাটির উপরের অংশ (জীবন) তোমাদের জন্য নিচের অংশ (মৃত্যু) থেকে উত্তম হবে।"
রেফারেন্স: সুনানে তিরমিযী, হাদিস: ২২৬৬ (দুর্বল হিসেবে চিহ্নিত, তবে পরামর্শের দিকটি ইসলামী নীতি হিসেবে স্বীকৃত)সাদাকা হলো যাকাত ছাড়াও আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য স্বেচ্ছায় সম্পদ ও ভালো ব্যবহার দ্বারা দান করা। এটি বিপদ দূর করে, মৃত্যুর কষ্ট কমায়, সম্পদ বৃদ্ধি করে এবং কেয়ামতে ছায়া হিসেবে কাজ করে। সাদাকা সাধারণ ও সাদাকায়ে জারিয়াহ (অবিচ্ছিন্ন) এই দুই ধরনের হতে পারে এবং এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় দায়িত্ব।
সাধারণ সাদাকা: যেমন: গরিব ও দুস্থদের টাকা বা অন্য কোনো জিনিস দান করা।
সাদাকায়ে জারিয়াহ: এটি এমন দান যা মৃত্যুর পরও সওয়াব দেয়, যেমন: একটি মসজিদ, মাদ্রাসা বা জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠানে দান করা।
ফারজ বা ওয়াজিব সাদাকা: যাকাত হলো সাদাকার একটি বাধ্যতামূলক রূপ, যা নির্দিষ্ট শর্ত সাপেক্ষে প্রদান করতে হয়। যাকাত ছাড়াও অন্য সব সাদাকা ঐচ্ছিক ও স্বেচ্ছাপ্রণোদিত।
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
দান এবং সদকা মূলত একই জিনিস। আরবিতে সদকা আর বাংলায় দান। 'সদকা' -এর আক্ষরিক অর্থ 'ন্যায়পরায়ণতা' এবং দানকে বোঝায়।
ইসলামী পরিভাষায়; সদকাকে ‘বিনিময়ে কোন কিছু না চেয়ে একমাত্র আল্লাহকে সন্তুষ্ট করার অভিপ্রায়ে কাউকে কিছু দেওয়া’ বোঝানো হয়েছে। এছাড়াও, আর-রাগিব আল-আসফাহানির মতে ‘সদকা হল যাকাতের মতো, আল্লাহর নিকটবর্তী হওয়ার আশায়, ব্যক্তির যা কিছু есть তা থেকে দেয়াকে সদকা বলে।’
কিন্তু বাংলা ভাষায় কখনো কখনো দান কে হাদিয়ার অর্থে ব্যবহার করা হয়, সুতরাং যদি হাদিয়ার নিয়তে দেওয়া হয় তাহলে ধনী গরিব যে কাউকে দেওয়া যাবে।
আর যদি সদকা করা হয় তাহলে নিম্নের ব্যক্তিদের চেয়ে কাউকে দেওয়া যাবে। তুমি পরামর্শ থাকবে এমন কোথাও দান করা যার মাধ্যমে সওয়াব জারি থাকবে, যেটাকে সদকায়ে জারিয়া বলে। এক্ষেত্রে কোনো তালিবে ইলমের জন্য খরচ করা যেতে পারে অথবা কোন দ্বীনি প্রতিষ্ঠানে দান করা যেতে পারে।
কুরআনে পরিস্কার তাদের তালিকা দেয়া হয়েছে। যথা-
إِنَّمَا الصَّدَقَاتُ لِلْفُقَرَاءِ وَالْمَسَاكِينِ وَالْعَامِلِينَ عَلَيْهَا وَالْمُؤَلَّفَةِ قُلُوبُهُمْ وَفِي الرِّقَابِ وَالْغَارِمِينَ وَفِي سَبِيلِ اللَّهِ وَابْنِ السَّبِيلِ ۖ فَرِيضَةً مِنَ اللَّهِ ۗ وَاللَّهُ عَلِيمٌ حَكِيمٌ [٩:٦٠]
যাকাত হল কেবল ফকির, মিসকীন, যাকাত আদায় কারী ও যাদের চিত্ত আকর্ষণ প্রয়োজন তাদে হক এবং তা দাস-মুক্তির জন্যে-ঋণ গ্রস্তদের জন্য, আল্লাহর পথে জেহাদকারীদের জন্যে এবং মুসাফিরদের জন্যে, এই হল আল্লাহর নির্ধারিত বিধান। আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়। {সূরা তাওবা-৬০}
মোট ৮ ধরণের ব্যক্তিকে যাকাত ও সদকাহ তথা দান দেয়ার কথা কুরআনে বর্ণিত। যথা-
উপরোক্ত ক্যাটাগরিতে যাকাত আদায় করলেই যাকাত ও সদকাহ আদায় হবে।
والله اعلم بالصواب
---- Source মুফতী মুহাম্মাদ রাশেদুল ইসলাম
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, মদিনা মুনাওয়ারা ৷